মহামারী নোভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে ১৭০৬ সালের পর ৩১৪ বছরের মধ্যে ব্রিটেন এবার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পূর্বাভাস, করোনা প্রকোপে দেশটির অর্থনীতিকে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ মন্দায় ফেলতে যাচ্ছে। যা মোট দেশজ উৎপাদন ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেবে।
ব্যাংকটি বলছে, করোনাভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিকেও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে জিডিপিতেই কেবল বড় পতন হবে না, বেকারত্বের হারও অনেকটা বাড়বে।
ব্যাংকের সবশেষ মুদ্রানীতির প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপির ৩০ শতাংশ পতন হতে পারে। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩ শতাংশ কমার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি আরও ২৫ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাগাতার দুই প্রান্তিকের এ ধাক্কায় বছর শেষে মোট জিডিপি ১৪ শতাংশ কমতে পারে বলেই পূর্বাভাস দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের, যা ১৭০৬ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন। তবে অন্ধকারের পর আলোর রেখাও দেখছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।
বলা হচ্ছে, ২০০৮ সালের মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে যতটা সময় লেগেছিল, এবার তার চেয়ে অনেক কম লাগবে। যুক্তরাজ্যের জিডিপি করোনা পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে পারে সামনের বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২০২২ সালেই তা আরও তিন শতাংশ বাড়তে পারে। তবে কোভিড-১৯ মহামারীর অবসান হবে, এই ধারণায় জোর দিয়েই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলছেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির অনেকটাই নির্ভর করছে এ মহামারী কোন পর্যায়ে যায়, সরকার, জনগণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কীভাবে তা মোকাবিলা করে তার ওপর। এদিকে সুদের হার আগের মত ০.১ শতাংশে রাখলেও তা অর্থনীতির প্রয়োজনে আবারও পরিবর্তন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন গভর্নর।
সুদের হার নিয়ে ৯ সদস্যের মুদ্রানীতি কমিটি একমত হলেও অর্থনীতিতে তারল্য সরবরাহের বিষয়ে ভিন্নমত ছিল কারও কারেও। দুজন সদস্য আরও ১০০ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। এর আগে মার্চে এক দফা তারল্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়।

No comments:
Post a Comment