করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বাড়ছে মৃতের তালিকাও। এখনও পর্যন্ত কোনও ভ্যাকসিন বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। এরই মাঝে মারণ করোনা ভাইরাস নিয়ে আরও আতঙ্কের ইঙ্গিত দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, করোনার কোনও ভ্যাকসিন নাও বেরোতে পারে।
বরিস জনসন নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। মাস খানেক আগেই সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দেন তিনি। তাঁর ওই বক্তব্য বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কোনও রাষ্ট্রনেতা এভাবে কী করে বলতে পারেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
বরিস জনসন সতর্ক করেছেন, যে সুস্থ থাকতে গেলে নিজেকেও সাবধান থাকতে হবে। কারণ করোনা ভাইরাসের টিকা আদৌও বেরোবে কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। জনসনের দাবি গোটা বিশ্বের পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে এগোচ্ছে। এই ইস্যুতে ৫০ পাতার একটি গাইডলাইন প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড সরকার।
কীভাবে করোনার হাত থেকে বাঁচা যাবে ও ধাপে ধাপে কীভাবে লকডাউন তুলে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। করোনা পরবর্তী ক্ষেত্রে যাতে অর্থনীতিতে কোনও প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বরিস জনসন।
করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হতে এক বছরের বেশি সময় লাগবে বা কখনও সেটি তৈরি হবে না, এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং ব্রিটেন কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবে, তার খসড়া তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন জনসন।
এর আগে, একই কথা শুনিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, করোনার ভ্যাকসিন কোনওদিন নাও বেরোতে পারে। এমন তথ্য দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডঃ ডেভিড নাবারো।
সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাতকারে নাবারো বলেন করোনা এমন এক ভাইরাস, যার ভ্যাকসিন না বেরোনোর আশঙ্কা রয়েছে। করোনা নিয়ে হু-র তৈরি করা বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্য নাবারো জানান, বিশ্বে এমন অনেক ভাইরাস রয়েছে, যার ভ্যাকসিন বানানো সম্ভব হয়নি।
তাই করোনার ভ্যাকসিন যে তৈরি হবেই, একথা জোর দিয়ে বলা যায় না। যতক্ষণ না করোনা প্রতিরোধকারী ভ্যাকসিনটি সবধরণের পরীক্ষা ও সতর্কতামূলক বিধি উতরে যাচ্ছে, ততক্ষণ সেটি ব্যবহারের যোগ্য নয় বলেই মনে করা হবে বলে জানান নাবারো।

No comments:
Post a Comment