আলিপুরদুয়ার: তথাকথিত সভ্য ও শহুরে মানুষ বলে দাবী করাদের চেয়ে ওঁরা যে শৃঙ্খলা বোধে অনেক অনেক এগিয়ে, তা স্পষ্ট উত্তরের চায়ের মহল্লায়। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে ওঁরা পদে পদে বুঝিয়ে দিচ্ছেন পুলিশের লাঠি অথবা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার থেকে নিজেদের বোধটাই সব থেকে বড় বিষয়। অথচ করোনার আতঙ্কে দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই উত্তরের চা শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে একরাশ উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা, এমন কি নিজেদের রুটি-রুজির প্রশ্নে সন্দিহান হয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছিলেন পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ চা শ্রমিক। কিন্তু লকডাউন খানিকটা শিথিল হতেই রাজ্য সরকার চা শিল্পকে সচল করতে উদ্যোগি হওয়ার দরুন, ফের বুকে বল পেয়েছেন চা শ্রমিকরা ।
আপাতত পঞ্চাশ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে কাজ শুরু করেছে চা বাগান গুলি। চা পাতা তোলা থেকে শুরু হয়েছে কারখানায় কারখানায় নতুন করে চায়ের উৎপাদন। কিন্তু চা বাগান গুলিতে ঢুঁ মারলেই দেখা যাচ্ছে সামাজিক দূরত্ব মানার অঙ্কে চা শ্রমিকরা একশোতে একশো পাওয়ার দাবী রাখেন। কাজের সময় আট ফুটের দূরত্ব বিধি কিছুতেই ভাঙছেন না তাঁরা। ক্ষণে ক্ষণে পালা করে চলছে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া, সামাজিক দূরত্ব মেনে চা পাতার ওজন থেকে শুরু করে রেশন নেওয়া। কারখানাও সচল হয়েছে সামাজিক দূরত্ব মেনে। তাতে ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ যেন ফের খুঁজে পেয়েছে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ। করোনাকে দূরে সরিয়ে রেখে, শুধু মাত্র শৃঙ্খলা বোধের উপর জোর দিয়ে যে ভাবে ডুবতে বসা চা শিল্প ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, তা রাজ্য তো বটেই, সারা দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের দরবারে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হওয়ার দাবী জানাতেই পারে।
শহরের মানুষদের থেকে চা বাগানের শ্রমিকরা বেশি সচেতন এবং যে ভাবে শ্রমিকরা সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ করছে তা প্রশংসনীয় বলে জানান চুয়াপাড়া চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার দিব্যেন্দু নন্দী। তিনি জানান, "লকডাউনের শুরুতে আমরা প্রতিটি শ্রমিক মহল্লায় গিয়ে গিয়ে সচেতন করেছি কি কি করা প্রয়োজন তা জানিয়েছি এবং তারপর থেকে শ্রমিকরা নিজে থেকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছে , মাস্ক ব্যবহার করছে এমনকি চা বাগানে পেমেন্ট নেওয়ার সময় , চা পাতা ওজন করার সময় ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে শ্রমিকরা"। চুয়াপাড়া সিনিয়র ম্যানেজার আরও জানান," শহরে আমরা দেখছি বাজারে ভিড় গিজগিজ করছে কিন্ত চা বাগানে সেই দৃশ্য দেখা মিলবে না, শ্রমিকরা যথেষ্ট সচেতন করোনা নিয়ে"।
এই বিষয়ে চা বাগানের শ্রমিক নেতারা জানান, চা বাগানের শ্রমিকরা করোনা নিয়ে খুব সচেতন শহরের শিক্ষিত মানুষের থেকে চা বাগানের কম শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত মানুষরা খুব সচেতন এবং নিয়ম মেনে তারা কাজ করছে।

No comments:
Post a Comment