করোনার কারণে থমকে গিয়েছে বিশ্ব। বাদ যায়নি দেশ বা রাজ্য কোনওটাই। চলছে লকডাউন। আর এই লকডাউনে মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গণবণ্টন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে তাসের ঘরের মতো। রেশনে যাওয়ার আগে ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে। আর উনি নবান্নকে 'পার্টি অফিস' করে তার সাফাই গাইছেন। তাই সবার আগে মুখ্যমন্ত্রীর অপসারণ দাবি করলেন সায়ন্তন বসু।
সায়ন্তন এদিন মুখ্যমন্ত্রীর অপসারণ দাবি করে বলেন, তৃণমূল নেতারা যদি বলে থাকেন রাজভবনকে আমরা পার্টির সদর অফিসে পরিণত করেছি, তাহলে বলব মুখ্যমন্ত্রী যদি ডিজি, মুখ্যসচিবদের পাশে বসিয়ে নবান্নকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত করতে পারেন, আমরাও রাজভবনকে সদর অফিস করতে পারি। কিন্তু আমরা তা করছি না।
সায়ন্তনের ব্যাখ্যায়, মুখ্যমন্ত্রীই নবান্নকে পার্টি অফিসে পরিনিতি করে ফেলেছেন। তিনি সচিব, ডিজিদের নিয়ে পার্টির হয়ে সাফাই দেওয়াচ্ছেন। করোনা লকডাউনে শোচনীয় ব্যর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কোনও কন্ট্রোলই নেই। তাই তৃণমূল নেতারা যথেচ্ছাচার করছেন। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিৎ। রাজ্যপালের কাছে আমরা এই দাবি জানিয়েছি।
সায়ন্তন আরও বলেন, রাজ্যে রেশন ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই প্রতিটি এলাকাতেই বিক্ষোভ চলছে। মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন। আর হবে নাই বা কেন। কেন্দ্র চাল ও অন্যান্য শস্য পাঠাচ্ছে। সেই সব কাটিং হয়ে যাচ্ছে রাস্তাতেই। তিনভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ তাই ১০ কেজির জায়গায় ৩ কেজি পাচ্ছেন, ৫ কেজির জায়গায় ২ কেজি পাচ্ছেন। কারণ চাল-গম ইত্যাদি রেশনে পৌঁছনোর আগে তিন ভাগ হচ্ছে। একভাগ চলে যাচছে তৃণমূল নেতানেত্রী-কাউন্সিলরদের কাছে। তাঁরা ওই খাদ্যশস্য বণ্টন করে দেবতা সাজছেন। আর একভাগ চলে যাচ্ছে তৃণমূল নেতাদের হাত ঘুরে কালোবাজারিদের কাছে। তা দ্বিগুণ-তিনগুণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর বাকি একভাগ রেশনে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেই ফিরহাদ হাকিম রাজ্যপালকে রাজভবন ছেড়ে বিজেপির পার্টি অফিসে বসার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

No comments:
Post a Comment