বালুরঘাট ৩১ মে -- জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে বাড়ী ভাংচুড়ের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ালো বালুরঘাট থানার মালঞ্চাতে। ভাংচুড়ের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। বিবাদমান দুই গোষ্ঠীকে ডেকে এলাকায় যাতে শান্তি বজায় থাকে তারই প্রয়াস চালায় পুলিশ। যদিও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে বাইরে থেকে আসা হামলাকারিরা পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ এ ব্যাপারে কাউকে গ্রেফতার করতে না পারলেও দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত জারি রেখেছে বলে জানা গেছে।
রবিবার দুপুরে বালুরঘাট থানার মালঞ্চা এলাকার পল্লি পাঠাগার পাড়ায় আচমকাই একদল আদিবাসী লাঠি সোটা নিয়ে ওই এলাকার জনৈক জয়ন্তী সরকারের বাড়ীতে চড়াও হয়ে হামলা চালানোর পাশাপাশি তার বাড়ীতে ভাংগচুড় চালায় বলে অভিযোগ। পঞ্চাশ বছর বয়ষ্কা জয়ন্তী দেবীর অভিযোগ, তার প্রতিবেশী আদিবাসী দম্পতি শিবনাথ হাসদা ও তার স্ত্রী তমা মার্ডির বিরুদ্ধে। তার অভিযোগ তার বাড়ীর সীমানার উপর দিয়ে যাতায়াত নিষেধ করা নিয়ে বেশ কয়েকদিন আগে ওই আদিবাসী পরিবারের সাথে সীমানা নিয়ে বিবাদ হয়েছিল। এই নিয়ে গতকাল অঞ্চলের সদস্য দেবদূত বর্মন দুই পক্ষকে ডেকে সালিশি সভা করে নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে নিতে বলেন। প্রতিবেশী হিসেবে এলাকায় শান্তিপূর্ন ভাবে বসবাস করার জন্য তিনি তার কথা মেনে নেন। স্বামীহিনা জয়ন্তী দেবীর আরও অভিযোগ, কিন্তু আজ দুপুরে হঠাৎ একদল বহিরাগত আদিবাসি লাঠি সোটা নিয়ে তার বাড়ীতে চড়াও হয়ে প্রানে মেরে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে এবং তার বাড়ীর দরজা ভেংগে দেয়। তার অভিযোগ, গতকাল গ্রাম সদস্যের মধ্যস্থতার পরও ওই শিবনাথ হাসদা তাদের সম্প্রদায়ের লোকজন নিয়ে এসে তার উপর হামলা চালিয়েছে।
অপর দিকে শিবনাথ হাসদা ও তার স্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ তুলে জানায়, তাদের উপর জয়ন্তী দেবী ও তার পরিচিত অন্যান্যরা মিলে কয়েক দিন আগে তার স্ত্রীকে মারধোর চালানোর পাশাপাশি স্ত্রীর প্রতি কটুক্তি করেছে। এই নিয়ে পুলিশে তারা আগেই অভিযোগ জানিয়ে ছিলেন।
এদিকে এলাকায় এই নিয়ে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে আসেন গ্রাম সদস্য দেবদূত বর্মন। কিন্তু তিনিও বিষয়টি জেনে অবাক হয়ে বলেন, গতকালকেই তারা দুই পক্ষকে নিয়ে সভা করে বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। তারপরে আজ কেন বহিরাগতরা এসে এলাকায় হামলা চালালো তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি চান এলাকায় শান্তি বজায় থাকুক।
পুলিশ বার বার দুই পক্ষকে ডেকে শান্তি বজায় রাখার ব্যাপারে বললেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। বিশেষ করে বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালানোর জন্য। এই নিয়ে যে কোন সময় আবার উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে এলাকার বাসিন্দারা আশংকা প্রকাশ করেছে। যদিও এই নিয়ে কেউ ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চায় নি।
No comments:
Post a Comment