মৃত্যু যে কখন কার উদ্দেশ্যে হাতছানি দেয়, তা আমরা কেউই জানি না। তবে সৃষ্টিকর্তা চাইলে সে বিপদ থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি। আর তাইতো, মহারাষ্ট্রে মালবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে ঘুমন্ত ১৬ পরিযায়ী শ্রমিক নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বীরভূমেও ঘটতে যাওয়া একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েও হল না। চালকের কারণে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়ে গেলেন ৫১ জন শ্রমিক।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ৫১ জন পরিযায়ী শ্রমিক ধান কাটার কাজ করেন বর্ধমানে। দুজনের বাড়ী মালদহে। বাকিদের বাড়ী ঝাড়খণ্ডের বরহরওার বিভিন্ন গ্রামে। তাদের সঙ্গে মেয়ে, পুরুষ, বাচ্চাকাচ্চা সবাই ছিল।
লকডাউনে গাড়ি না পেয়ে পায়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রেললাইনের ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ী ফিরছিলেন সবাই। ব্রাহ্মণী সেতুর উপর আসতেই বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রেন চলে আসে। দূর থেকে চালক বুঝতে পেরে ব্রেক চেপে টানা তীব্র হর্ন বাজাতে শুরু করেন।
ট্রেনের তীব্র হর্ন আর ইঞ্জিনের আলো দেখে পায়ে চলা মানুষরা থেমে যান। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নলহাটি স্টেশনে নিয়ে আসে।
নলহাটি ১ ব্লকের বিডিও জগদীশ চন্দ্র বারুই বলেন, আমরা তাদের থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করেছি। বাসেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাদের বাড়ী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ওই ৫১ জনের দলের একজন জোসেফ টুডু বলেন, আমি ছিলাম দলের পেছনের দিকে। প্রথমে বুঝতে পারিনি উল্টো দিক থেকে ট্রেন আসছে। দলের বেশির ভাগই তখন ব্রিজের উপর। নামার জায়গা ছিল না।
জোসেফ অওরঙ্গাবাদের ঘটনা শুনেছেন। তবু তার কথায়, বাড়ী তো ফিরতেই হবে। না হলে তো অভুক্ত থাকতে হবে। গোটা দল এখন প্রহর গুনছে কখন সরকার বাস দেবে, বাড়ী ফিরবেন সবাই। শুক্রবার মহারাষ্ট্রে একটি মালবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে ঘুমন্ত ১৬ পরিযায়ী শ্রমিক নিহত হন। লকডাউনের মধ্যে নিহত শ্রমিকরা হেঁটে মধ্য প্রদেশে যাচ্ছিলেন; পথে ওরঙ্গবাদের কর্মদ এলাকার কাছে একটি রেললাইনের ওপর ঘুমিয়ে পড়েন তারা।
স্থানীয় সময় ভোর সোয়া ৫টার দিকে তাদের ওপর দিয়ে মালবাহী ট্রেনটি চলে যায়। মুহূর্তেই শরীর কেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় শ্রমিকদের। ঘটনাস্থলেই মারা যান সবাই।

No comments:
Post a Comment