করোনা, ভূমিকম্প, আম্ফান, পঙ্গপালের পর এবার দাবানল। দেশ যেন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নাভিশ্বাস উঠছে ভারতবাসীর। চারিদিক থেকে নানারকম সমস্যা গ্রাস করছে ধীরে ধীরে।
দাউ দাউ করে জ্বলছে উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ বনভূমি। দাবানলের জেরে জঙ্গলের জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যপ্রণীদের জীবনও বিপন্ন। এই নিয়ে ৪৬টি দাবানলে ক্ষতিগ্রস্থ হল উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ বনভূমি। বনভূমির অর্ধেকের বেশি প্রজাতির বন্যপ্রাণীর জীবন বিপন্ন। গত চারদিন ধরে চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে সেখানে উদ্বেগ বাড়ছে।
দাবানলের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কুমায়ুন অঞ্চলের জঙ্গলগুলির। চলতি বছরে শুধুমাত্র এই অঞ্চলেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে প্রায় ১২০০ হেক্টর বন। কুমায়ুন ছাড়াও দাবানলের খবর পাওয়া গিয়েছে নৈনিতাল, আলমোরা, পউরি গাড়ওয়াল, দেরাদুন এবং তেহরি থেকেও। আগুন যত ছড়িয়ে পড়ছে বাড়ছে উষ্ণতা। বনভূমি যতই গরম হয়ে যাচ্ছে ততই হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল। বহু মূল্যবান বৃক্ষ ও বিরল প্রজাতির প্রাণীর জীবন আজ চরম সংকটে ।
আগুন নেভাতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। আগুন নেভাতে গিয়ে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। আরও একজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। গোটা উত্তরাখণ্ডে মোট ৩৪ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে বনাঞ্চল। ২৩ মে শ্রীনগর জেলায় প্রথম দাবানল শুরু হয়। তারপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আগুন।
এই দাবানলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। ধোঁয়া আর ছাইয়ের জেরে বাতাসে বাড়ছে ব্ল্যাক কার্বণ। ফলে গোটা উত্তরাখণ্ডসহ উত্তর ভারতে দিন দিন বেড়েই চলেছে তাপমাত্রা।দাবানলের ফলে উত্তর ভারতে তাপমাত্রার পারদ ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

No comments:
Post a Comment