প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। এই ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে এখন পর্যন্ত (রবিবার বেলা পৌনে ৩টা) বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার মানুষ। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮ শতাধিক মানুষের।
করোনার থাবায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশ ইতালি, স্পেন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। তবে শোচনীয় অবস্থায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকার। দেশটিতে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১১ লাখ ৬০ হাজার ৮ শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৭ হাজার ৪৪৮ জনের। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে আমেরিকা।
এর মধ্যেই নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করছে নাম না জানা অচেনা আরও এক রোগ। করোনার দাপট ঠেকাতেই হাঁপিয়ে ওটার জোগার ট্রাম্প প্রশাসনের। এই অবস্থায় মার্কিন মুলুকে নতুন রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় ভীতসন্ত্রস্ত গোটা দেশ।
এক রেডিও সাক্ষাৎকারে মার্কিন স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক বলেন, “করোনা আতঙ্কের মাঝেই এক অজানা রোগের উপদ্রব শুরু হয়েছে আমেরিকায়, যা সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করছে শিশুদের এবং অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদের। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, সম্পূর্ন নতুন এই রোগে সারাদেহে প্রদাহের সৃষ্টি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই রোগে শিশুদের সারা শরীরে লাল-লাল গুটি গুটি দেখা দিচ্ছে, যা অসম্ভব জ্বালার সৃষ্টি করছে শরীর জুড়ে।”
আর সম্পূর্ন নতুন এই রোগের আক্রমণে ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শিশু মারা গেছে। আবার অনেকের হার্ট এবং ফুসফুসে সমস্যা হওয়ায় তাদের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক তাদের ইনসেন্টিভ কেয়ার ইউনিটে ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
যদিও আক্রান্ত শিশুদের প্রত্যেকেরই রক্তের নমুমা পরীক্ষা করা হয়েছে।
তাতে অবশ্য করোনার জীবাণু মেলেনি। ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে। তবে নয়া এই রোগের সঙ্গে করোনাভাইরাসের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন ডাক্তার,গবেষক- বিজ্ঞানীরা।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আক্রান্ত শিশুদের প্রত্যেকেরই বয়স পাঁচের মধ্যে। আর এই রোগ তাদের ইমিউনিটি পাওয়ার অনেক কমিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে দিন যতই যাচ্ছে ততই রূপ পরিবর্তন করছে মারণ করোনাভাইরাস। ফলে পৃথিবীজুড়ে মহামারীর মধ্যে নতুন করে দেখা দিচ্ছে অন্য এক চোরাশঙ্কা।

No comments:
Post a Comment