লকডাউনে বাধ্য হয়ে গাছের পাতা খেয়ে ক্ষিদে নিবারণ বৃদ্ধের - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 14 May 2020

লকডাউনে বাধ্য হয়ে গাছের পাতা খেয়ে ক্ষিদে নিবারণ বৃদ্ধের




দেশে চলছে লকডাউন। আগামী ১৭ মে পর্যন্ত লকডাউন চলবে। এরপর তা ফিরে আসবে অন্য রূপে। তবে এই লকডাউনের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। অনেকেই বাড়ীর বাইরে বের হতে পারছেন না। কাজ না থাকায় বহু মানুষ খাবারের কষ্ট করছেন।

লকডাউন জারি করার পর থেকেই বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে, দেশে যখন আকস্মিক লকডাউন ঘোষণা করা হয় তখন অনেকেই বিভিন্ন রাজ্যে আটকা পড়েন।

সম্প্রতি লকডাউনে আটকা পড়া এক বৃদ্ধের করুণ কাহিনী উঠে এসেছে। তিনি আকস্মিক লকডাউনের কারণে কলকাতায় আটকা পড়েছিলেন। সেখানে খাবার না পেয়ে গাছের লতা-পাতা খেয়েই দিন কাটিয়েছেন।

ওই বৃদ্ধ কলকাতা স্টেশনের কাছেই ছিলেন। খাবারের কষ্টে বাধ্য হয়ে স্টেশনের বাইরে রেলিং ঘেরা বাগানের ঝোপ থেকে কচি পাতা ছিঁড়ে ক্ষিদে নিবারণ করেছেন তিনি।

প্রায় দু’দিন অভুক্ত থাকার পরও খাবারও জোটেনি। আর কোন উপায় না দেখে হাতের কাছে থাকা গাছের পাতা চিবিয়ে জল দিয়ে গিলে কোনও রকমে টিকিয়ে রেখেছিলেন প্রাণটা।

লকডাউনে কলকাতায় আটকে পড়ে এভাবেই কয়েকটা দিন কাটিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের নাকাপুরা গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ গোরুক্ষ সিং। না খেতে পাওয়ার কথা কাউকে বলতেও পারেননি। এই শহরও বুঝতে চায়নি তার অভুক্ত থাকার যন্ত্রণা।

তবে ঘটনাক্রমে রাজারহাটের বাসিন্দা আসাদুল আর ফারুক নামের দুই যুবক অবশেষে তাকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন। পরে তারাই ওই বৃদ্ধের খাবারের ব্যবস্থা করে দেন।

৮০ বছর বয়সী গোরুক্ষ সিং উত্তরপ্রদেশ থেকে কলকাতায় এসেছিলেন এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিতে। এক বাড়ীতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছিলেন তিনি। সেখানেই টাকা বাকি ছিল। লকডাউনের আগে ট্রেনে চড়ে কলকাতায় ওই বাড়ীতে যান।

কিন্তু সেখানে পাওনা টাকা মেলেনি। এরপরই লকডাউনে শহরে আটকে পড়েন ওই বৃদ্ধ। ঠাঁই হয় কলকাতা স্টেশনে। দু'দিন সেখানে না খেয়েই কাটিয়েছেন। পরে অবশ্য খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে। এই ঘটনা লকডাউনের প্রথম দিকের। সম্প্রতি সামনে এল এই চিত্র।

লকডাউনের কারণে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া অনেক লোকজনই আটকা পড়েন। বিশেষ করে শ্রমিকরা কাজের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিতে যান। লকডাউনের কারণে দিনের পর দিন সেখানে আটকা থেকে ব্যাপক ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়েছে তাদের।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad