সহজাত প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়ে বিদায় নিয়েছেন শক্তিমান বলিউড অভিনেতা ইরফান খান। ৫৪ বছরের জীবনে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি। নায়কদের ভিড়ে একজন সুঅভিনেতা হিসেবে সবার ভালোবাসা পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। কঠিন সেই কাজটি করে দেখিয়েছেন ইরফান। সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেস জার্নালের প্রতিবেদনে জানা যায়, একজন টায়ার বিক্রেতার সন্তান হয়ে ইরফান খান স্বপ্নকে ছুঁয়েছেন সযত্নে। কাজের প্রতি তাঁর যত্ন ও প্রগাঢ় ব্যক্তিত্বের কথা স্বীকার করেন সবাই। নির্ভীক জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন ইরফান। তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, এমনটি জানার পরও নিজের মতামতের প্রতি প্রগাঢ় আস্থাশীল ছিলেন তিনি। প্রায়ই কথা বলতেন সমসাময়িক নানা ইস্যু নিয়ে।
বৈবাহিক ধর্ষণ সম্পর্কে ইরফান
পুরস্কারজয়ী ভারতীয় অভিনেতা শাইনি আহুজা যখন নিজ গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন, তখন সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হন ইরফান। বৈবাহিক ধর্ষণ সম্পর্কেও মত জানতে চাওয়া হয় তাঁর কাছে। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ভারতীয়দের ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’-এর মতো বিষয় নিয়েও ভাবা উচিৎ বলে মত দেন এ অভিনেতা।
‘আমি মনে করি, ভারতের ৯০ শতাংশ নারী বৈবাহিক জীবনে কোনও না কোন সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আপনারা বুঝতে পারছেন, আমি কী বলতে চাইছি,’ বলেন ইরফান।
এরপর ওই সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে আবারও যোগাযোগ করা হয় ইরফানের সঙ্গে। তিনি নিজের আগের বক্তব্যের পক্ষে বলেন, ‘আমি পরিসংখ্যানবিদ নই। শতাংশ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই। কিন্তু অধিকাংশ বিয়েতেই এ রকম ঘটনা ঘটে। তাঁরা কোন বন্দি নন।’
ইরফান খান আরও বলেন, ‘আমার সামনে যা ঘটে, সে সম্পর্কে আমি বক্তব্য দিতে পারি। অনেকেই একে অস্বীকার করবে, অনেক সময় আপনি একমত হতে চাইবেন না। কখনও আপনি লুকাতে চাইবেন অথবা নিকটজনের কাছেই সীমাবদ্ধ রাখবেন।’
যা হোক, ২০১৮ সালে ইরফান খানের নিউরোনডকট্রিন টিউমার ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন তাঁর চিকিৎসা করা হয় দেশের বাইরে। দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি সুস্থ হয়ে ফেরেন। কিন্তু গত ২৯ এপ্রিল কোলন ইনফেকশনের কাছে পরাস্ত হন।
ওই দিন দুপুর ৩টায় ইরফান খানকে মুম্বাইয়ের বারসোবা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় তাঁর পরিবারের লোকজন, ঘনিষ্ঠ স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।
নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশে লকডাউন ঘোষিত হওয়ার কিছুদিন আগে ১৩ মার্চ ইরফানের সর্বশেষ ছবি ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সীমিত পরিসরে মুক্তি পায়। পরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেওয়া হয়। এতে আরও অভিনয় করেন রাধিকা মদন, কারিনা কাপুর খান, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, ডিম্পল কাপাডিয়া ও কিকু শ্রদ্ধা।

No comments:
Post a Comment