করোনা মোকাবিলায় সাফল্য দেখিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালা। বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ‘কেরালা মডেল’ নিয়ে সেখানে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বলছেন, কোয়ারেন্টাইন ও কঠোর লকডাউনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে কোভিড-যুদ্ধে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে রাজ্যটি।
দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন কেরালায়। চীনের উহান থেকে আসা এক শিক্ষার্থীর দেহে মেলে এ ভাইরাস। তারপর বিভিন্ন রাজ্যে করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও ঠিকই লাগাম টেনেছে দক্ষিণ-পশ্চিমের এ রাজ্যটি। ভারতে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বলছেন, কেরালার এই মডেল অন্য রাজ্যগুলোও এখন অনুসরণ করছে।
কেরালায় পড়াশোনা করা থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বদরুন্নাহার ফারজানা বলেন, ইন্ডিয়ায় কোয়ারেন্টাইন ১৪ দিনের। কিন্তু কেরালায় এই সময়সীমা ২৮ দিনের। সর্বোচ্চ ২ জন একসাথে বাইরে বের হতে পারবে। প্রতিদিন এখানে প্রায় ২৪-২৫ হাজার করে টেস্ট করা হয়েছে।
মহামারী ঠেকানোর উপায় হচ্ছে, ব্যাপক হারে পরীক্ষা, আইসোলেশন, সংস্পর্শে আসাদের শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। ঠিক এই কাজগুলোই যথাযথভাবে করেছে কেরালা সরকার। এছাড়া কড়া লকডাউন তো রয়েছেই। মানুষকে যে কোনও সেবা দিতে চালু আছে হটলাইন নাম্বার। অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে খাদ্য। ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ বা করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি যাদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের খুঁজে বের করায় সাফল্য দেখিয়েছে কেরালা। ভ্রাম্যমাণ টেস্টিং ব্যবস্থা বা ‘কোভিড উইস্ক’ সেবা খুবই কার্যকর হয়েছে।
ভারতে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভৈরবী মন্ডল বলেন, যারা বিদেশি আছেন অনলাইনে আবেদন করলে সেটি বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মেয়াদ তবে শর্তসাপেক্ষে।
ভারতে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়লেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখনও ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

No comments:
Post a Comment