বিশ্বজুড়ে প্রলয় সৃষ্টিকারী নভেল করোনাভাইরাস কি উহানের ল্যাব থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে? গোটা বিশ্বে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আমেরিকার দাবি, উহানের ওই ভাইরোলজি ল্যাবরেটরি থেকেই লিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এই বিষয়ে আমেরিকা রীতিমত তদন্ত শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো হুমকি দিয়ে রেখেছেন, চীনের কাছ থেকে বড় অংকের ক্ষতিপুরণ আদায় করে ছাড়বেন।
তবে শুক্রবার ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন দাবি করলেন, চীনের উহানের গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তির কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহে অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্কট মরিসন করোনাভাইরাসের উৎপত্তি অনুসন্ধানে বৈশ্বিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এতে ওই সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল বেইজিং।
শুক্রবার মরিসন জানিয়েছেন, করোনার উৎপত্তি উহানে দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে তত্ত্ব হাজির করেছেন তার সমর্থনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে কোন তথ্য-প্রমাণ নেই। করোনার প্রাদুর্ভাব কিভাবে শুরু হয়েছিল এবং এটি কিভাবে এত দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়েছে সে বিষয়ে তদন্তের জন্য তিনি যে আহ্বান জানিয়েছিলেন এই সংশয় তাকেই সমর্থন করছে।
মরিসন বলেন, 'আমাদের কাছে আগে যেসব তথ্য ছিল সেগুলো উৎসের ব্যাপারে ইঙ্গিত দেয় না। আমরা জানি এটা চীন থেকে শুরু হয়েছিল, আমরা জানি এটা উহান থেকে শুরু হয়েছিল, সম্ভাব্য চিত্রটি হচ্ছে এটি বণ্যপ্রাণীর চোরাই বাজার থেকে শুরু। তবে এটা এমন ব্যাপার যা পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করতে হবে।'
তবে মরিসন চীনা হুমকির মুখে সুর বদলালেন কিনা সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়ে করোনার উৎপত্তি সন্ধানে তদন্তের দাবি করার পর অস্ট্রেলিয়ায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন যে, তদন্তের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে চীনা গ্রাহকরা প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ান গরুর মাংস, ওয়াইন, পর্যটন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বয়কট করতে পারে।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৭৬৭ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু বরণ করেছেন ৯৩ জন। সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৫ হাজার ৭৪৫ জন।

No comments:
Post a Comment