করোনার বিরুদ্ধে দিনরাত এক করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জরুরী পরিষেবার সাথে জড়িত মানুষেরা। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী পুলিশ, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সাথে কাধে কাঁধ মিলিয়ে সব ক্ষেত্রেই পুরুষদের সাথে এই যুদ্ধে সামিল হয়েছেন মহিলারাও।
উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ব্লকের করোনা ভাইরাস আক্তান্ত এবং সংক্রামিত এলাকা থেকে সন্দেহভাজনদের রায়গঞ্জের কর্নজোড়ায় সরকার অধিগৃহীত সরকারি করোনা হাসপাতালে পৌছে দিতে একমাত্র বাহক অ্যাম্বুলেন্সের চালিকা সেলিনা বেগমকে তার এই সাহসিকতা ও তাকে উৎসাহিত করতে হেমতাবাদ ব্লক হাসপাতালে গিয়ে পুষ্পস্তবক ও মিষ্টি দিয়ে সংবর্ধিত করলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান।
গত শনিবার জেলার তিনজন আক্রান্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই যখন করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ নিয়ে মানুষ আশঙ্কিত হচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রেই যখন অনেক পুরুষ অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা নিজেদের কাজে যেতে চাইছেন না বলে অভিযোগ উঠছে।
ঠিক সেই সময় হেমতাবাদ ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে হেমতাবাদ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আবার হেমতাবাদ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে রায়গঞ্জ গভঃ মেডিকেল কলেজ বা আবার কোভিড-১৯ হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় একাধিকবার রোগীদের নিয়ে যাওয়া আসার কাজ করে চলছেন সেলিনা।
দক্ষিন হেমতাবাদ এলাকায় বাড়ি সেলিনার। বাড়িতে আছেন মা, বাবা দিদি ও একভাই। সেলিনার রোজগারের উপরেই নির্ভরশীল গোটা পরিবার।
কিন্তু করোনা আবহে প্রথমদিকে খানিকটা ভয় হলেও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবে সমস্ত ভয় ভীতি দুরে সরিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে রোগি চাপিয়ে ছুটে চলেছেন সেলিনা। শুধু তাইই নয়, লকডাউন পর্ব শুরু হওয়ার পরে আর বাড়িতে থাকেননা সেলিনা৷
স্বাস্থ্য কর্তাদের সাহায্যে হেমতাবাদ স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই একটি ঘরে দিদিকে নিয়ে থাকেন। আর রোগী নিয়ে যাওয়ার কল আসলেই দ্রুতগতিতে ছুটে চলে সেলিনার গোলাপী সাদা এ্যম্বুলেন্সটা৷ এখনও পর্যন্ত অনেককেই কোয়ারান্টাইন সেন্টারেও পৌছে দিয়েছে সেলিনা। শুধু তাইই নয়, শনিবার তার ওই অ্যাম্বুলেন্সেই হেমতাবাদের করোনা পজিটিভ রোগিকে নিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন রায়গঞ্জের কোভিড-১৯ হাসপাতালে।
ভয় কি জিনিষ জানেনা সেলিনা। সরকারী সাহায্যে পাওয়া ওই এ্যম্বুলেন্স টা নিয়ে সেলিনা,শুধু রোজগারের জন্যই ছুটে চলে না সে। তার কথায়, 'এই সময়তো মানুষ মানুষকে ছুতেও চায় না, আমি এই সময়ে মানুষের সেবা করতে পারছি আমার নিজেরই ভালো লাগছে।
'সত্যিই দেশের এই বিপদের সময় সেলিনার মতো নারীরা নজির গড়ে চলছেন। আর তাই এদিন সেলিনাকে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার সাথে তুলনা করে তাকে "মা" হিসেবে সম্বোধন করে তাকে পুষ্পস্তবক ও মিষ্টি দিয়ে সংবর্ধিত করেন উত্তর দিনাজপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান। এদিন রবীন্দ্রনাথ বাবু জানান,সেলিনা আমাদের মায়ের মত নির্ভিকভাবে আগলে রেখেছেন।
দেবী দুর্গার মত করোনা অসুরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন। এটা সত্যিই আমাদের কাছে গর্বের। তবে এদিন সেলিনা ছাড়াও এই পরিস্থিতিতে নিযুক্ত আশা কর্মী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে কর্মরত সমস্ত মহিলা কর্মীদের প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানান মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক

No comments:
Post a Comment