আগে থেকেই নোট বন্দি, জিএসটি একটা প্রভাব ছিলই। এর উপরে আবার লকডাউনে চরম সমস্যার
সম্মুখীন হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী থেকে চাকরিজীবী, চাষীরাও।
বিশেষ করে গ্রাম বাংলার একাংশ চাষিরা আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন যাপন করছে
প্রতিনিয়ত।তাঁরা না পারছেন সময় মতো চাষবাস করতে। না পারছে আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে টাকা দিন মজুরী
বা শ্রমিক নিয়ে চাষবাস করাতে।
চাষিদের এই
দুরবস্থা কাটাতে কিছুটা হলেও পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এলো হাবড়ার হাবরার টুনিঘাটার
একটি মানবাধিকার সংস্থা। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে টুনিঘাটা পিপলস মুভমেন্ট অফ হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার
অ্যাসোসিয়েশন নামে এই সংস্থাটি চাষীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে।। হাবড়ার ১নং
ব্লকের কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় চাষিদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল।
এদিন
করোনাবিধি মেনে মুখে মাক্স, নির্দিষ্ট
দূরত্ব রেখে চাষিদের সঙ্গে শ্রম দিয়ে কাজ করতে দেখা গেল কয়েকজন সদস্যকে। সকাল
হতে না হতেই চাষিদের সঙ্গে কাজ করতে মিন্টু হালদার, সমীরণ
কাঞ্জিলাল, সজল মালাকার, অমিত
বিশ্বাসরা এই কাজে সামিল হতে দেখা গেল।
বৃহৎ নাংলাবিল যখন তাঁর গভীরতা হারিয়ে বনজঙ্গলে পরিণত
হয়েছে। তখন খেটে খাওয়া শ্রমিকের পাশে দাঁড়াতে কেউ কাঁচি, কেউ কোঁদাল, কেউ হাঁসুয়া নিয়ে
কাজে সামিল হতে দেখা গেল। ধুনচি গাছ,পাট গাছ থেকে
শুরু করে কচুরিপানা,ঘাস পরিষ্কার
করে জমিকে মনোরম পরিবেশ তৈরি করে দেয়া হল যা। দেখে খুশিতে ভরে উঠল ধানচাষী সাধন
গোলদার।
সাধন বাবু জানান,জমিতে ধান চাষ
করবো কিন্তু এতো বনজঙ্গল সাফাই করবো কি করে।তাঁর উপর হাতে পয়সা নেই।শ্রমিক নেবো কি
করে।বাবা বাড়িতে অসুস্থ। ভাবতেই পারছিলাম না যে চাষ বাস আর করতে পারবো।কিন্তু এই
দাদারা জমিতে পরিস্কার করার পর সাহস জাগছে মনে।এবার হয়তো ধান চাষ করতে পারবো। অন্যদিকে পাঁচঘরিয়া তেও, মিন্টু হালদার,পলি বিশ্বাস
বুলু বৈদ্যরা নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে, মুখে মাক্স পরে
উচ্ছে খেতে আংশিক সাফাই করে উচ্ছে তুলে দিতে দেখা গেলো।
ভোর হতে না হতেই উচ্ছে
নিয়ে যেতে হয় নিকটে কুমড়া বাজারে। পাশে কুমড়া বাজার হলে উঠতে হয় ভোর চারটের
আগে। কিন্তু অন্ধকার থাকায় তা সমস্যার সম্মুখীন হতে দেখা যায়। তাদেরকেও ভোরে উচ্ছে
তুলে দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল এই সংস্থার সদস্যরা। এ বিষয়ে সংস্থার
সেক্রেটারি সঞ্জীব কাঞ্জিলাল জানান, লকডাউন অনেক
চাষিরা বিপদের সম্মুখীন হয়েছে।আর্থিক অনটন বেড়েছে।
তাঁরা কেউ কেউ পারছেনা টাকা খরচ করে শ্রমিক নিয়ে কাজ
করাতে। তাই সাধ্যমতো ওদের কাছে একটু দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে আমাদের এই উদ্যোগ
দেখে অনেকেই এখন যোগাযোগ করছে। আমরা সামান্ন সাহায্য করতে পেরে নিজেকে গর্ববোধ করছি। যতদিন বাচবো মানুষের
পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব, এমন টাই বললেন
সংস্থার কর্তা।

No comments:
Post a Comment