মদের দোকানে ঠাসাঠাসি ভীড় দেখে চমকে উঠছেন। বিপ্লব করছেন। মশাই জ্ঞানের চোখ আপনার খুলেছে দেরিতে। গণমানুষের চরিত্রটাই আসলে এরকম। আফিমের থেকেও বেশি নেশা হয় বলেই আমরা সবাই মত্ত। মাতাল বলে যাকে হেও করছেন তার সাথে আপনার ফারক কোথায় কতটুকু? কি ভূমিকা রেখেছেন আপনি?
এখনকার এক পরিযায়ী জনপ্রতিনিধি যখন জীবনে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন বেশ নাটক করে বলেছিলেন ভোটের প্রচার করতে এসে দেখছি কখনও ডান দিক কখনও বাম দিক আবার কখনও নৌকার মত দুলছি। চলন্ত গাড়িতে মশা কামড়াচ্ছে। মশা মারতে গিয়ে এমনদশা দূর থেকে দেখলে মনে হবে আমি প্রচারে নেমে গাড়ির ওপর নাচ করছি।
ভোটে জিতে মশাই জনপ্রতিনিধি হলেন। ব্যাস আগের জনপ্রতিনিধির মতন তিনিও লাপাতা। মশাই ভোটে জেতার আগে প্রচারে বলেছিলেন আগের জনকে কবে দেখেছেন কেউ মনে করতে পারেন। আমি সারাক্ষণ আপনাদের পাশে থাকব। ডাকলেই পাবেন।
ভোটে জেতার পর মশাই বললেন, আমাকে দিয়ে কি হবে। আপনাদের তো কোনও সমস্যা হচ্ছে না।
জনগন ভোট একবার নয় দুবার দিয়ে জেতালেন। রাস্তার উন্নতি বলতে আগে খারাপ থাকত নয় মাস এখন ছয় মাস। মশা এখন পোশা হয় নর্দমায়। পরিকল্পনাহীন নর্দমায় জমে থাকে জল। দূর্নীতির আয় বেশ পকেটে ঢোকে চোখ মোটা নাক মোটা নেতাদের। মশার লার্ভা খাওয়া মাছ নর্দমায় ছাড়া হয়। কাগজে কলমে দেখানো হয় বহু ফিরিস্তি।
প্রশ্নটা নাগরিক থেকে বিরোধী কেউ করেনা : নর্দমায় কেন মাছ ছাড়া হয়। নর্দমা কি তাহলে রুদ্ধ? সাফাই হয় না ঠিকমত?
মশার কামড় খেতে হবে। মরতে হবে। ডেঙ্গুর নাম কেউ উচ্চারণ করতে পারবে না। বলতে হবে অজানা জ্বরে মৃত্যু। বেশ ধরেই নিলাম অজানা জ্বর। জ্বরটা মশা বাহিত তা তো স্বীকার করছেন। ফেলে রাখা জমির মালিককে নোটিশ করা, প্লাস্টিক ও থার্মোকল উৎপাদন বন্ধ করা, পরিকল্পিত নর্দমা তৈরি করছেন না কেন? বললে বিরোধী শিবিরের তকমা দিয়ে সোজা জেল।
দোষটা পরিযায়ী জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারের। এটাই তো বলি সবাই। একদম ঠিক নয়। দোষটা নাগরিকের । ভোটটা নাগরিক দেয়। নাগরিক বেঘোরে মৃত্যুকে বেছে নিতে ভালোবাসে। বাঁচতে নয়। জনপ্রতিনিধিকে দোষারোপ না করে নিজেরা শুধরে নিতে পারে ভোটাররা। রাজনীতির আফিম এতটাই খেয়েছে যে প্রাণ হারানোর ভয় ডর নেই। ফলে করোনার ভয় উপেক্ষা করে মদের দোকানে ঠাসাঠাসি করে তো দাঁড়াবেই।এটাই স্বাভাবিক।
বি দ্র :
ফেসবুক থেকে লেখাটি সংগৃহীত। প্রেসকার্ড নিউজের সাথে লেখকের মতামতের মিল নেই।
No comments:
Post a Comment