প্রাণঘাতী করোনায় বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। তবে এতদিন ধরে ধারণা ছিল, এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হন বয়স্করা এবং মৃত্যুও হয় তাদের। তবে এবার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি লন্ডনে মারা গেছে করোনায় আক্রান্ত এক স্বাস্থ্যবান কিশোর ও সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ এক তরুণ। এই দুই মৃত্যুতে গবেষকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে দুশ্চিন্তা। আর ভেস্তে যাচ্ছে তাদের এতদিনের গবেষণা।
ওই কিশোরের নাম ইসমাইল মোহাম্মদ আবদুলওয়াহাব, বয়স মাত্র ১৩ বছর। গত সোমবার (৩০ মার্চ) লন্ডনের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই কিশোর। যুক্তরাজ্যে করোনায় এটিই সবচেয়ে কমবয়সী কারও মৃত্যুর ঘটনা।
মঙ্গলবার তার পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইসমাইলের বয়স ছিল মাত্র ১৩। তার কোনও রকম শারীরিক সমস্যা ছিল না এবং সে ছিল একজন তরতাজা বালক। কিন্তু করোনা তাকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।
অপর এক বিবৃতিতে তার পরিবার আরও জানিয়েছে, করোনায় সংক্রমিত হওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর ইসমাইলকে লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে সে কোমায় চলে যায়। এ অবস্থায় গত সোমবার সকালে সে মারা যায়।
এদিকে তার পরিবারকে সহায়তা করার জন্য বুধবার সকালে ‘GoFundM’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। ওই পেজের মাধ্যমে ইসমাইলের দাফনের জন্য ইতিমধ্যে সেখানে ৫১ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ৬৩ হাজার ডলার) বেশি অর্থ তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ওই কিশোরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। এক শোকবার্তায় কিংস কলেজ হাসপাতাল জানাচ্ছে,‘দুঃখজনক, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক বালক। পরীক্ষায় তার দেহে করোনা সংক্রামন পজিটিভ এসেছিল। এই অকাল মৃত্যুতে আমরা তার পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করছি।’
এর আগে গত ২৪ মার্চ লন্ডনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে মাত্র ১৯ বছর বয়সী এক ইতালিয়ান নাগরিক। লুকা ডি নিকোলা নামের সদ্য কৈশোর পেরোনো ওই তরুণ লন্ডনের এক হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে কাজ করতো।
এ খবর জানিয়েছে ইতালির দৈনিক পত্রিকা ‘লা রিপাবলিকা’। ওই পত্রিকাকে ডি নিকোলাসের বাবা জানিয়েছেন, তার কোনও স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা ছিল না। সে ছিল একজন স্বাস্থ্যবান তরতাজা তরুণ।
এই দুটি ঘটনা প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এর আগে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই কথা বলেছিলেন যে, করোনায় সাধারণত প্রবীণরাই মারা যান। ফলে এই দুই তরুণের মৃত্যুতে উদ্বেগে পড়েছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজারের বেশি মানুষ এবং মারা গেছেন ২৩৫২ জন।

No comments:
Post a Comment