সীমান্ত বন্ধের বাধা হার মানাতে পারেনি ইংগা-কার্স্টেনের প্রেমকে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 2 April 2020

সীমান্ত বন্ধের বাধা হার মানাতে পারেনি ইংগা-কার্স্টেনের প্রেমকে



ডেনমার্কের ৮৫ বছর বয়সী ইংগা রাসমুসেন ও জার্মানির ৮৯ বছর বয়সী কার্স্টেন হ্যানসেন এখনও প্রায় প্রতিদিনই আভেনতফত শহরের কাছে সীমান্তের দুই পারে বসে কথাবার্তা বলেন, পানীয় ভাগাভাগি করে নেন।

তবে সতর্কতামূলক নির্দেশনা মেনে তারা দূরত্ব বজায় রেখেই কথা বলেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে দুই সপ্তাহ আগেই জার্মানি ও ডেনমার্কের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ইউরোপজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো কোভিড-১৯ রোগে জার্মানিতে এরই মধ্যে ৬৩ হাজার আক্রান্ত শনাক্ত ছাড়িয়েছে; ডেনমার্কেও এই সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কয়েকমাস আগেও ইউরোপের শেনজেনভুক্ত এলাকার বাসিন্দাদের একে অপরের দেশে যেতে কোনও ধরনের বাধার মুখে পড়তে হতো না; সীমানাগুলো খোলাই থাকতো। করোনা ভাইরাসের ব্যত্যয় ঘটাল; কিছু কিছু দেশের সীমানা এমনকি ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার বন্ধ হল।

অবশ্য এ বিধিনিষেধও ইংগা-কার্স্টেনের প্রেমকে আটকাতে পারেনি।

“মহামারী দুঃখজনক, কিন্তু আমরা তো আর তা বদলাতে পারবো না,” জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে এমনটাই বলেছেন রাসমুসেন।

আশি ঊর্ধ্ব এ যুগলের এ হার না মানা ভালোবাসার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে স্থানীয় টোন্ডার শহরের মেয়রের; মোটরবাইকে চড়ে এক জায়গায় যাওয়ার পথে তিনি সীমানার দুই পারে বসা এই দুইজনকে দেখতে পান।

ইংগা ও কার্স্টেন জানান, দুই বছর আগে একে অপরের সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। প্রতিদিন একে অপরের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর অভ্যাস শুরু হয় বছরখানেক আগে।

করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টির আগে এই যুগল একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন, মহামারী শেষ হলে ফের ভ্রমণেরও পরিকল্পনা আঁটছেন তারা।

একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে গালেহাস শহর থেকে গাড়ি চালিয়ে আসেন ইংগা, কার্স্টেন আসেন সুদারলুগাম থেকে, বাইক চালিয়ে।

৮৯ বছর বয়সী এ জার্মানের হাতে কখনও কখনও অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় থাকলেও ইংগার কফি ছাড়া চলে না।

“শেষ পর্যন্ত আমাকে তো গাড়ি চালিয়েই ফিরতে হবে,” ডেনিশ সংবাদমাধ্যম দের নর্দস্লেসুইগারকে এমনটাই বলেছেন এ নারী।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad