লকডাউন সম্প্রীতির অনন্য নজির এটা বাংলা সংস্কৃতি ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে গ্রামের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে একদল যুবকেরা।একদিকে যখন লকডাউন এর জেরে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গেছে, সাধারণ মানুষ কাজ হারিয়েছে।
ঠিক তখনই বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া ব্লক এর খাসবালান্দা অঞ্চলের সিরাজ গাজী, শামিম খান, বাবলু সিং, শেখ রিয়াজুল, লালটু সিং রি সুভাষপল্লী সামলা নাসির হাটি মহিষষ্টিকারি গ্রামের একদল যুবক ।এগিয়ে এলেন ইসলামিক জলসা কমিটি দীর্ঘ কুড়ি বছরের এই এলাকার ধর্মীয় অনুষ্ঠান মানুষের কাছে জনপ্রিয়।
তারা জলসা না করে জলসার বরাদ্দ তিন লক্ষ টাকা দিয়ে যতদিন পর্যন্ত লকডাউন না উঠবে ।ততদিন পর্যন্ত ১৭০০ পরিবারের প্রায় ৮০০০ গ্রামবাসীকে প্রতিদিন নিয়ম করে দিন ও রাত্রি তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেবে যুবকেরা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকারই আদিবাসী দলিত এবং কিছু মুসলিম পিছিয়ে পরা।
তিন বেলা রান্না করে খাওয়ালেন কয়েকদিন ধরে। তারা বলেন খাবার নিতে তাদের আসতে হবে না। লকডাউন মান্যতা দিন। আপনারা ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আমরা রান্না করে আপনাদের বাড়িতে দিয়ে আসব। এই সংকল্প নিয়ে গ্রামের ১০ যুবক এগিয়ে চলেছে।
একদিকে করোনা মোকাবেলায় মানুষকে সচেতন করছেন। অন্যদিকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন ঘরে ঘরে। এবং সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন লকডাউন কে সমর্থন করতে ওরা আদিবাসী প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা ওরা জানেনা লকডাউন ও ভাইরাস কাকে বলে।ওরা হয়তো ঠিক মত জানে না।
এই মুহূর্তে কাজ হারিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই। এলাকার যুবকদের পাশে পেয়ে ওরাও খুব খুশি, তিন বেলা তিন মুঠো অন্তত খেতে তো পারবো। পাশে পেয়ে গ্রামের মানুষেরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছে, দুহাত ভরে তাদের আশীর্বাদ দিচ্ছেন। এদেশ সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে যাতে অন্যরা উদ্বুদ্ধ হন ।সেই বার্তা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা।

No comments:
Post a Comment