করোনা লকডাউনে কাজ হারিয়ে দিল্লির আজাদপুরে আটকে থাকা উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের ৬ শ্রমিকের মুখে খাবার যোগানোর ব্যবস্হা করলেন পুরপ্রধান কার্তিক পাল। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের মাধ্যমে এই শ্রমিকদের হাতে ৫ হাজার টাকা তুলে দিলেন কালিয়াগঞ্জের পুরপ্রধান।
বুধবার দিল্লি থেকে কালিয়াগঞ্জের এই শ্রমিকেরা যোগাযোগ করেন শহর তৃনমূলের "দিদিকে বলো" টিম লিডার শুভ্রপ্রতিম রায়ের মাধ্যমে পুরপ্রধানের সঙ্গে। দিল্লির আজাদপুরে একটি কারখানায় কাজ করতো কালিয়াগঞ্জের এই শ্রমিকদের সঙ্গে বাংলার অন্যান্য জেলার আরোও অনেক শ্রমিক। বাঁকুড়ার ৬ জনের সঙ্গে কালিয়াগঞ্জের ৬ জন মিলে ১২ জন একসঙ্গে থাকতো। এরা সকলেই খাবার সংকটে পরেছে বলে জানান।
নিয়ম মেনে বাংলার এই শ্রমিকদের বিষয়টি দিদিকে বলো'র মাধ্যমে বুধবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শুভ্রপ্রতিম। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকের তালা খুললে এদের খাবারের জন্য ৫ হাজার টাকা পাঠান কালিয়াগঞ্জের পুরপ্রধান। সেই টাকা পেয়ে দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে এই শ্রমিকেরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন কালিয়াগঞ্জের পুরপ্রধানকে।
এই প্রথম নয়, গত সপ্তাহে কালিয়াগঞ্জ শহরের চিড়াইল মন্ডলপাড়ার এক শিশু সহ ৭ জন শ্রমিক লকডাউনের কবলে পরে হায়দ্রাবাদ শহরে আটকে থাকার বার্তা পাঠায়। তাদের খাবারের জন্য ২৮ মার্চ পুরপ্রধান ৫ হাজার টাকা পাঠান। পাশাপাশি কালিয়াগঞ্জ লায়ন্স ক্লাবের সহযোগীতায় হায়দ্রাবাদ লায়ন্স ক্লাবের মাধ্যমে এদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।
এদিন কালিয়াগঞ্জের পুরপ্রধান কার্তিক পাল জানান এই শহর ও ব্লকের হাজার হাজার শ্রমিক দেশের নানা রাজ্যে কাজ করে। করোনার জেরে আচমকা ২১ দিন লকডাউন ঘোষণায় বহু শ্রমিক বিপাকে পড়েছে ভিন রাজ্যে। এদের মধ্যে অনেকেই খাবার সংকটে পরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
এদের কথা মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনার সঙ্গে ব্যাক্তিগত ভাবে আমি কিছু টাকা পাঠাচ্ছি খাবার নিশ্চিত করতে। সমস্ত মানুষ লকডাউন মেনে চলে করোনাকে দ্রুত পরাস্ত করে স্বাভাবিক জনজীবনে ফিরে আসুক এই প্রার্থনা করি ঈশ্বরের কাছে।
এদিকে দিল্লির আদর্শনগর থানার আজাদপুরে গৃহবন্দী হয়ে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে জিল্লুর আলী জানান লকডাউন হতে মালিক কারখানার তালাবন্ধ করে চলে গেছে। হাতে যে টুকু টাকা ছিল তা দিয়ে কয়েকদিন খাবার যোগার করেছি। টাকা ফুরিয়েছে বলে খাবার যোগার করতে পারছিনা। এক ঘরে কালিয়াগঞ্জ ৬ জনের সঙ্গে বাঁকুড়ার ৬ জন আছি।

No comments:
Post a Comment