মৃতদেহ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই ইতালির হাসপাতাল মর্গে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 18 March 2020

মৃতদেহ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই ইতালির হাসপাতাল মর্গে





করোনাভাইরাসের প্রকোপে ফাঁকা হয়ে গেছে ইতালির রাস্তাঘাট। দেশটিতে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ৬ কোটিরও বেশি মানুষ। ক্লান্ত চিকিৎসক ও নার্সরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন আক্রান্তদের বাঁচিয়ে রাখতে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে তাদের থেকে আলাদা হয়ে থাকছে বাবা-মা। কিন্তু তারপরও প্রতিদিন শ’ শ’ লাশ দেখতে হচ্ছে ইতালির শহরগুলোকে।
ইউরোপের করোনা ঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ইতালির। ফলে ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে দেশটিতে। সোমবার একদিনেই দেশটিতে মারা গেছেন ৩০০ জনের বেশি।
এ নিয়ে করোনার শিকার হলেন কমপক্ষে ২১০০ ইতালীয়। এ সংখ্যা চীনের বাইরে সবথেকে বেশি। সব থেকে ভয়াবহ অবস্থা লোমবার্ডির। ইউরোপের করোনা ভাইরাস বিস্তারের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে শহরটি। সেখানে হাসপাতালের মর্গে আর লাশ রাখার জায়গা হচ্ছে না।
মৃতদের সৎকারেও কড়াকড়ি করছে ইতালি সরকার। ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য শেষ প্রার্থনায় অল্প কিছু নিকটজনকে অনুমতি দেওয়া হয় তাতে অংশগ্রহণে। পরিবারের সদস্যরাও তাতে মাস্ক পরে যোগ দেন। ইতালির আরেক গ্রাম জোঙ্গোতে স্থানীয় পাদ্রিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তারা দিনে একবার মৃত্যু ঘণ্টা বাজাবেন। কারণ করোনায় মৃত্যুর মিছিল বড় হতে থাকায় সারাদিনই ঘণ্টা বাজাতে হচ্ছিল।
ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদেরকে শেষ বিদায় দিতে পারছেন না সজনরা। হাসপাতালের আইসোলেটেড কক্ষে বন্ধু ও পরিবার ছাড়াই মারা যাচ্ছেন ইতালীয়রা। স্থানীয় সংবাদমাধ্য থেকে অনেকেই সজনের মৃত্যুর খবর জানছেন। স্থানীয় পত্রিকা লেকো দি বারগামো প্রতিদিন মৃতদের তালিকা প্রকাশ করে একটি পাতা বের করতো। কিন্তু করোনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করার পর থেকে তাদের এ পাতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত শুক্রবার তারা ১০ পাতায় মৃতদের তালিকা প্রকাশ করে।
এদিকে সৎকারে যারা কাজ করছেন তারাও আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন করোনাতে। এতদিন মনে করা হত মৃত্যুর পর মরদেহ থেকে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে না। কিন্তু সামপ্রতিক এসব তথ্য এ ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। ফলে সৎকার কার্যে নিয়োজিতদেরও কোয়ারেন্টিন করে রাখা হচ্ছে। ইতালির শহর কাস্টিগলিওন ডাড্ডার মেয়র জানান, ২১শে ফেব্রুয়ারির পর থেকে এই ছোট শহরে ৪৭ জন মারা গেছেন। যেখানে পুরো ২০১৯ সালে মারা গেছেন ৫০ জন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad