করোনা: দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী কী কী বার্তা দিলেন, জেনে নিন - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 19 March 2020

করোনা: দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী কী কী বার্তা দিলেন, জেনে নিন





নিজস্ব সংবাদদাতা, ১৯ মার্চ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ রাত আটটায় সারা দেশেরর জনগণের উদ্দেশ্যে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে ভাষণ দেন। তিনি বলেন  বিশ্বে করোনা ভাইরাস  মানব সভ্যতার সামনে একটি  মহা সংকট নিয়ে প্রস্তুত হয়েছে। তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন "আসুন আমরা সবাই নিজে বাঁচি, অন্যকে বাঁচাই, দেশকে বাঁচাই।" প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন  করোনা রুখতে প্রয়োজন জনতা কারফিউ। তাই তিনি বলেন, আগামী রবিবার, ২২ মার্চ সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঘরে থাকুন । বাড়ীর বাইরে একদম বের হবেন না।


ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশ জুড়ে ক্রমশই  উদ্বেগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ মারা গিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত এই রোগে  দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৭ জন। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫ জন। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এমনই পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশ্যে এই ভাষণ প্রধানমন্ত্রীর।


তিনি বলেন, এই ভয়ঙ্কর বিপদ থেকে মুক্ত হয়ে মানবজাতি জয়ী হোক । দেশে কেন্দ্রীয় সরকার হোক বা রাজ্য সরকার, জনপ্রতিনিধি হোক বা বিদ্বজ্জন, সবাই এই মহামারি থেকে বাঁচতে যোগদান করছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে এক হয়ে মোকাবিলা করতে হবে। এই সঙ্কট এত বড় যে, এক দেশ অন্য দেশকে সাহায্য করতে পারছেন না।  আশঙ্কা ও ভয়ের বাতাবরণও এমন তৈরি হয়েছে নিজের যে টুকু করা দরকার, সেটা করেছেন । গত দু’মাসে যে সঙ্কট উপস্থিত হয়েছে, তা নিজের সমস্যা মনে করে সবাই সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। তিনি যোগ করেন, "মজুতদারি করবেন না, আতঙ্কে অতিরিক্ত জিনিসপত্র কিনবেন না। দেশে দুধ, খাবার-সহ অত্যাবশ্যক জিনিসপত্রের ঘাটতি যাতে না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে । কেউ অফিসে আসতে না পারলে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবেন না, মানবিক ব্যবহার করুন। আর্থিক ব্যবস্থার মোকাবিলা করতে কোভিড-১৯ ইকনমিক টাস্ক ফোর্স গঠন করা  হচ্ছে, নেতৃত্বে থাকছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই টাস্ক ফোর্স আর্থিক সমগ্র বিষয়ে নজর রাখবে।  এই মহামারি অর্থ ব্যবস্থার উপরেও ব্যাপক প্রভাব পড়ছে । পারিবারিক চিকিৎসক বা পরিচিত চিকিৎসকের মাধ্যমে ফোনে পরামর্শ নিন।  দেশবাসীকে আমার অনুরোধ, রুটিন চেকআপ করার জন্য হাসপাতাল এড়িয়ে চলুন।"

"সরকারি কর্মী হোক, বিমানবন্দরের কর্মী হোক, সংবাদ মাধ্যমের কর্মী হোক, সবাই নিজেদের কথা না ভেবে অন্যের সেবায় নিয়োজিত । এরা সবাই বিপদ মাথায় নিয়ে কাজ করছেন । আমরা পুরো শ্রদ্ধার সঙ্গে এঁদের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। রবিবার বিকেল পাঁচটায় পাঁচ মিনিট ঘণ্টা বাজিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি । সাইরেন বাজিয়ে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হোক । যাঁরা সেবা করছেন, তালি, থালা, ঘণ্টা বাজিয়ে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব। এই দিন আমরা সবাই একে অন্যকে ধন্যবাদ দিই। আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত জরুরি কাজ থাকলে, তবেই ঘর থেকে বেরোন । আমাদের সবার উচিৎ সতর্ক থাকা, আপনারা এ দিক সে দিক ঘুরে বেড়াবেন, আর করোনা থেকে বাঁচবেন, এটা সম্ভব নয় । আজ আমাদের প্রতিজ্ঞা  করতে হবে, আমরা নিজেরা সংক্রামিত হওয়া থেকে বাঁচব, অন্যদেরও বাঁচাব। এর জন্য দেশবাসীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বহু মানুষকে আইসোলেশনে রেখে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সবার দুশ্চিন্তা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক । করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে এমন কোনও নিশ্চিত ওষুধ তৈরি হয়নি, কোনও টিকা তৈরি হয়নি।"

এরআগে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনাদের আগামী কয়েক সপ্তাহ আমি চাই। আজ ১৩০ কোটি দেশবাসীর কাছে কিছু চাইতে এসেছি । এটা আপনাদের আশীর্বাদের ক্ষমতা, আমরা সবাই মিলে নির্ধারিত লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। আপনাদের কাছে যখনই কিছু চেয়েছি, আপনারা নিরাশ করেননি । ফলে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।  করোনা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যাবে, এমন ভাবনা ঠিক নয়। দু’টি বিশ্বযুদ্ধেও এত দেশ জড়িয়ে পড়েনি।  বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি। গভীর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গোটা দেশ।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad