তাজমহল ও লালকেল্লা না থাকলে বিশ্বকে গরু ও গোবর দেখাতে হত ক্ষমতাসীন সরকারকে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 2 March 2020

তাজমহল ও লালকেল্লা না থাকলে বিশ্বকে গরু ও গোবর দেখাতে হত ক্ষমতাসীন সরকারকে





মোদি সরকার ও তার নীতির সমালোচনা এবং টিটকারী যেন পিছু ছাড়ছে না। যখন যে ইস্যু আসছে, সেই ইস্যু দিয়েই তুলোধুনা করছেন বিরোধীরা। মোদি সরকারের সমালোচনায় পিছিয়ে থাকেনি ১১ বছরের বালক। ভারতের মুসলমানদের বর্তমান অবস্থানে ইঙ্গিত করে বয়স ও দৈহিক আকৃতির বিবেচনায় ক্ষুদ্র এ বালক বিশ্বকে উচ্চকণ্ঠে জানিয়ে দিল, আজ যদি তাজমহল ও লালকেল্লা না থাকত, তাহলে বিশ্বকে গরু ও গোবর দেখাতে হতো ক্ষমতাসীন সরকারকে।

সম্প্রতি বিহারে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (সিপিআই) নেতা ও জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমার এক সমাবেশের আয়োজন করেন। সেখানে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছে এই বালক। সমাবেশে সে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং স্বাধীনতাবঞ্চিত মানুষের স্বাধীনতা দাবি করে।

১১ বছরের এই বালকের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সে তার বক্তব্যে মুঘল শাসনামলের স্থাপত্যের (তাজমহল ও লালকেল্লা) ভূয়সী প্রশংসা করে এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যঙ্গ করে। বক্তব্যের একপর্যায়ে ‘নরেন্দ্র মোদি মুর্দাবাদ’ বলে স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাকে। এ সময় করতালিতে ভরে যায় পুরো সমাবেশস্থল।

সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল টাইমস নিউজ নাও-এর অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) ও জাতীয় গণপুঞ্জির (এনপিআর) প্রতিবাদে প্রতিবাদ-সমাবেশ রেখেছে সিপিআই। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির নেতা কানহাইয়া কুমার। তারই অংশ হিসেবে ২৭ ফেব্রুয়ারি বিহারের পাটনায় ‘সংবিধান বাঁচাও’ র‌্যালির এই আয়োজন করে সিপিআই। সেখানে বক্তব্যের সুযোগ পায় এই বালক।

১ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সাদা টি-শার্ট ও চশমা পরিহিত বালক আঙুল উঁচিয়ে উঁচিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যে মোদি সরকারের সমালোচনা করে যাচ্ছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে সিপিসি নেতা কানহাইয়া কুমার তার পিঠ চাপড়ে দেন।

তবে আলোচিত এই বালকের নাম ও তার পরিচয় প্রকাশ করেনি টাইমস নিউজ নাও।

সম্প্রতি রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ-সহিংসতায় ৪২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও তিন শতাধিক মানুষ। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী (সিএএ) আইনকে কেন্দ্র করে গত রবিবার থেকে দিল্লির উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের সামনেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-মসজিদ সহ মুসলিমদের অসংখ্য বাড়িঘর ও দোকানপাট বেছে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে যেন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দিল্লি।

বৈচিত্র্যপূর্ণ ধর্ম-বিশ্বাস-সংস্কৃতির মানুষের একসঙ্গে বসবাসের গর্বিত ইতিহাস বয়ে চলা ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন নেমে আসে। কেবল মুসলিমরাই নয়, খোদ সনাতন ধর্মের নিম্নবর্ণের দলিতরাও শিকার হন গণপিটুনি নামে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ডের।

দিল্লির ঘটনায় সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের সমালোচনা করেন দেশের সুশীল সমাজও। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন, ‘দেশের রাজধানী ও কেন্দ্রশাসিত দিল্লিতে যা হয়েছে তা নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। যদি সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয় এবং পুলিশ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, সেটা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।’








সূত্র: জাগো নিউজ24

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad