করোনা সচেতনতায় ডক্টর পার্থ পন্ডিতের বার্তা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 23 March 2020

করোনা সচেতনতায় ডক্টর পার্থ পন্ডিতের বার্তা




সারা বিশ্ব জুড়ে আতঙ্কের বাতাবরণ, আমাদের দেশটিও এর  ব্যতিক্রম নয়। এখন পর্যন্ত দেশে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে; এদের মধ্যে একজন ইতালির পর্যটক ছিলেন, আর আজ রাজ্যে মৃত্যু হল একজনের।  সতর্কতা বেশি প্রয়োজন এই সপ্তাহ, অর্থাৎ ২৩ শে মার্চ থেকে। কারন এই সপ্তাহে করোনা ভারতে ৫ম সপ্তাহে পড়বে, অর্থাৎ “স্টেজ ৩”। এই সময় এটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই এই সপ্তাহটা খুব গুরুত্ব দিয়ে সতর্ক থাকুন। পরিবার, পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সকলকে সতর্ক করুন। অযথা আতঙ্ক ছড়াবেন না। পরিষ্কার থাকুন, সতর্ক বার্তা ছড়িয়ে দিন।

এই সপ্তাহে অবশ্যই যা করনীয়: --
১/ খুব প্রয়োজন ছাড়া গণ পরিবহন এড়িয়ে চলুন, কোনও প্রকার জন সমাবেশে যোগদান থেকে বিরত থাকুন।

২/৬০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের বাড়ীর বাইরে যেতে দেবেন না বা জন সংযোগে আসতে দেবেন না। শিশু ও  গর্ভবতী মহিলাদের বিশেষ যত্ন নিন।

৩/বাজার ও বাজার সংলগ্ন অঞ্চলে যতটা পারবেন কম যান। আর গেলেও বাড়ী এসে জামাকাপড় ছেড়ে সম্পূর্ণ হাইজিনিকভাবে পরিষ্কার হয়ে নিন।

৪/প্রতি ঘন্টা অন্তর সাবান/হ্যান্ড ওয়াশ/ হ্যান্ড স্যানিটাইজার/আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল ৭০% দিয়ে হাত কণুই পর্যন্ত ধুয়ে নিন।

৫/শাক-সবজি, ফল ভালো ভাবে ধুয়ে নেবেন। প্রয়োজনে কয়েক ফোঁটা ভিনিগার দিয়ে ভিজিয়ে রেখে তারপর জল ব্যবহার করে ধুয়ে নিন।

৬/ হাঁচি বা কাশি হলে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করুন, প্রতি ৬ ঘন্টা অন্তর মাস্ক পরিবর্তন করুন। সকলকেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে তেমনটা জরুরি নয়। যারা সর্দি কাশি দ্বারা আক্রান্ত বা সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিয়েছে,  শুধু তারা বা তাঁদের সান্নিধ্যে যাঁরা রয়েছেন তারা অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন। যারা পুলিশকর্মী, স্বাস্থ্য কর্মী, সমাজসেবক, সাংবাদিক, দমকল বাহিনী, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার এবং অন্যান্য জরুরি কালীন বিভাগ বা সংস্হার সঙ্গে যুক্ত তারা অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন।

৭/ ৬০ বছরের উর্ধে প্রত্যেককে বেশি করে সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া যাঁরা ডায়াবেটিস, অ্যাসমা, অ্যাসথেমা, হাঁপানি, কিডনির সমস্যা বা কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত এবং শারীরিক ভাবে দূর্বল, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা খুব কম, অ্যানিমিয়া এবং শ্বাস প্রশ্বাস জনিত রোগে আক্রান্ত এনাদের প্রত্যেকে সবচেয়ে বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও প্রাপ্তবয়স্ক বা যে কোনও ব্যক্তির জ্বর, সর্দি কাশি, হাঁচি, মাসকিউলার পেইন,জয়েন্ট পেইন, ডায়রিয়া উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যিক।

৮/ টাকা লেনদেন করার পর অবশ্যই হাত ধুয়ে চোখ, মুখ, নাক এবং খাবারে হাত দেবেন। এটিএম কাউন্টার ব্যবহার করার পরে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নেবেন।

৯/ যাদের হাতের আঙ্গুল মুখে দেওয়ার বা নখ দাঁতে কাঁটার বদ অভ্যাস আছে, তারা তা অবশ্যই পরিত্যাগ করুন। আপনার বাড়ীতে যে সকল বিষয় বহিরাগতদের সংস্পর্শে আসে, তা সবসময় পরিষ্কার রাখুন, অ্যান্টিসেপটিক তরল দিয়ে মুছে ফেলুন।

১০/ যতটা বেশি সম্ভব নিজের বাড়ীতে থাকুন, জনসংযোগ থেকে বিরত থাকুন। এর ফলে ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে না এলে এই ভাইরাস সংক্রমণের চেন-টা ভেঙে যাবে। ভিন্ন রাজ্য থেকে কেউ আপনার শহরে এলে তাকে অন্তত সাতদিন তার নিজের ঘরে সচেতন ভাবে থাকতে বলুন, আর কোনও উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 সবশেষে পরিষ্কার থাকুন, সকলে মিলে সতর্ক থাকুন, সকলে মিলে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অঙ্গীকার বদ্ধ হোন। স্টেজ ৩ সংক্রমণ প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় করোনা মহামারী আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। সুতরাং আতঙ্ক নয় বরং সতর্ক থাকুন।
                                                                                                                      ডক্টর পার্থ পন্ডিত

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad