যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 30 March 2020

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা



যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। শনিবার নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ১৩২ জন কয়েদি ও ১০৪ জন কর্মীর শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। কেবল নিউ ইয়র্ক নয় বরং পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই কারাগারগুলোতে করোনার উপস্থিতির কথা জানা গেছে।  ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে বন্দিমুক্তি দেওয়া হচ্ছে ঠিকই। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এর গতি খুবই ধীর। ভাইরাস মোকাবিলায় যা পর্যাপ্ত নয়।


যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ২০টি কারাগার যেসব শহর ও কাউন্টিতে অবস্থিত সম্প্রতি সেগুলোর ওপর জরিপ চালিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে দেখা গেছে, গত ২২ মার্চ থেকে ২২৬ কয়েদি ও ১৩১ জন স্টাফ নিশ্চিতভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

রিকার্স দ্বীপের কারাব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ভয়াবহ করোনার কবলে পড়েছে। হত্যাচেষ্টার দায়ে আট বছরের সাজাপ্রাপ্ত শান হার্নান্দেজ নামের এক কয়েদী জানায়, সেখানে বন্দিদের জন্য কোনও গ্লাভস বা যথাযথ মাস্কের ব্যবস্থা নেই। থাকার মধ্যে বলতে গেলে ঠাণ্ডা জলে হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

শান হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, কারাগারের সেল ত্যাগের সময় তিনি নিজের মুখ ও নাক টি-শার্ট বা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। সেখানে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার কাছে এটাই একমাত্র হাতিয়ার।

তিনি জানান, ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার কারাগারে বন্দিদের পাহারা দেওয়ার সময় এক নারী প্রহরী প্রথমে কাশি দেয়। এক পর্যায়ে গাল লাল হয়ে মেঝেতে পড়ে যায়। বন্দিদের চোখের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

শান হার্নান্দেজ বলেন, ‘কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমরাও অপেক্ষাকৃত ভালো সুরক্ষার জন্য আবেদন করছি। তাদের দিক থেকে সহায়তা মিলছে না। শেষ পর্যন্ত আমরা কেবলই কয়েদি, দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। আমরা পশুর পালের মতো।’

নিউ ইয়র্কের সংশোধন বিভাগের দাবি, তারা কয়েদিদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে একজন প্রহরী কাশি দেওয়ার পর গাল লাল হয়ে মেঝেতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্মকর্তারা।

নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন ও অন্যান্য বড় শহরগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, তারা কেবল ছোটখাট অপরাধের সঙ্গ যুক্ত অহিংস অপরাধীদের মুক্তি দিচ্ছেন। কারাগারগুলোর জন্য শহরের স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা বোর্ড অব কারেকশন প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে মুক্তি দিতে পারে। ৫০ বা তদুর্ধ্ব বয়সের বন্দি, অসুস্থ, অহিংস, ছোটখাটে অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত কিংবা প্যারোল লঙ্ঘনের দায়ে বন্দি ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের।

ঠিক কত সংখ্যক বন্দির করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে; তা জানাতে অবশ্য অস্বীকৃতি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব বন্দি করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে কিনা তা নির্ধারণে কোনও মেডিক্যাল স্ক্রিনিং করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং করা হলেও তা যৎসামান্য।

বন্দিদের আইনজীবী, স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটররা কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েদিদের মুক্তি দেওয়ার গতি আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

কারাগারে এ ভাইরাসের হট স্পটগুলোর একটি ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোতে অবস্থিত কুক কাউন্টি জেল। সেখানে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় গত রবিবার। ইতোমধ্যেই সেখানে ৮৯ বন্দি ও ৯ কর্মীর শরীরে এ ভাইরাস পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও ৯২ বন্দির পরীক্ষার ফল এখনও কর্তৃপক্ষের হাতে আসেনি।

পরিচালক উদি অফার বলেন, কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের বিস্তার থামাতে যে সংখ্যক কয়েদিকে মুক্তি দেওয়া দরকার আমরা কোথাও সেই হারের কাছাকাছিও নেই।

এই বন্দি মুক্তির ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। মার্সিজল নামের একটি ভিকটিমস রাইট গ্রুপ খুনের দায়ে অভিযুক্ত ধনকুবের হেনরি নিকোলাসের বোনের মুক্তির সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, এসব কয়েদিদের মুক্তি দেওয়ার আগে তাদের অপরাধের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের এ ব্যাপারে অবহিত করা উচিৎ। তবে বাস্তবে সেটি করতে গেলে কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad