সারাবিশ্বে এখন করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। তাই কারও করোনা সন্দেহ হলেই তাকে রাখা হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টাইনে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। কয়েকটা দিন ঘরে বিশ্রামে থাকলে এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রোগ হলে আক্রান্তকে ‘সোশ্যাল আইসোলেশন’-এ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সোশ্যাল আইসোলেশনের ওপরে নির্ভর করেই সংক্রমণ ঠেকিয়ে রাখার কথা ভাবছেন চিকিৎসকরা।
এ ধরনের সোশ্যাল আইসোলেশনের মানে কী? আর কেনইবা তা করা হয়?
সংক্রামক অসুখ বিশেষজ্ঞ সুমিত সেনগুপ্তের মতে, সোশ্যাল আইসোলেশন হচ্ছে– বাড়ীতে থেকেই সমাজের সব রকম জমায়েত থেকে দূরে থাকা। তিনি বলেন, প্রয়োজনেই মানুষকে অন্য মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। অফিস, ক্লাব, পাড়ার আড্ডা, স্কুল-কলেজ, জিম, নানা রকম পার্টি, অনুষ্ঠান, বাজার, পারিবারিক জমায়েত, যাতায়াত সব মিলিয়েই বাইরের মানুষজনের সংস্পর্শে আসতে হয় তাকে। কেউ অসুস্থ মনে হলে সে ১৪ থেকে ১৫ দিন এসব না করে ঘরে বসে থাকলে অসুখ ভালো হয়। আর রোগ ঠেকিয়ে রেখে সংক্রমণ প্রতিরোধ করার এটিই উপায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল আইসোলেশন মানে একঘরে হয়ে থাকা নয় বরং কিছু দিন কয়েকটা নিয়ম মেনে চলা।
কী করবেন?
১. এ সময় রান্নার কাজ নিজেই করুন। সম্ভব না হলে খাবার ডেলিভারি করে এমন কোনও সংস্থাকে অর্ডার করে দিন। ফোনে বলে রাখুন দরজার কাছে খাবার নামিয়ে রেখে যেতে। টাকা-পয়সা দিন অনলাইনে।
২. ঘরে কেউ থাকলে সারাক্ষণ সার্জিক্যাল মাস্ক পরে থাকুন। রোগীর জন্য রান্নাবান্না করা বা খেতে দিতে বাধা নেই।
৩. রোগীকে দেখভালের সময় পরে থাকুন এন ৯৫ মাস্ক। মাস্ক পরা থাকলে ও ঘন ঘন হাত ধুলে কোনও ভয় নেই।
৪. বিশেষ প্রয়োজনে রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিতে হলে মাস্ক পরতে হবে। ঘরে ফিরে সাবান বা ইথাইল অ্যালকোহল মেশানো হ্যান্ডওয়াশে এবং জল দিয়ে স্নান ও কাপড় কাচতে হবে।
৫. যোগাসন ও শরীরচর্চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। তাই জিমে না গিয়ে বাড়ীতেই তা করতে পারেন।
৬. ফোনে কথা বলা বা ভিডিও দেখায় কোনও বাধা নেই। শুধু আপনার ব্যবহারের ফোনটিকে আলাদা করে রাখুন।
৭. গামছা তোয়ালে সহ স্নানের উপকরণ প্রতিদিন গরম জলে ফুটিয়ে নিন। চিকিৎসকের পরামর্শমতো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ ও খাবার খান।
৮. রোগীর ব্যবহারের ঘর ও জিনিস আলাদা করে রাখতে পারলে ভালো। দরকার না পড়লে সেই ঘরে অন্য কারও প্রবেশ না করা ভালো।
৯. দেখভাল করতে তার ঘরে ঢুকলে বেরিয়েই ভালো করে হাত-পা ধুয়ে নিন। পরে থাকুন মাস্ক।
অতএব, অযথা নিজেও আতঙ্কিত হবেন না, আর অপরের ভয়ের কারণও হয়ে উঠবেন না। সচেতন থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

No comments:
Post a Comment