রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি মহিলাদের স্বাস্থ্য উন্নত করে গোলমরিচ। গোলমরিচ বা পেপারে রয়েছে পিপারাইন (piperine) অ্যাকটিভ কম্পাউন্ড। খাবারকে টেস্টি করার সঙ্গে বেশকিছু অসুখ-বিসুখ দূর করতে সাহায্য করে এই কম্পাউন্ড। আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ়, জ়িঙ্ক, ক্রোমিয়াম, ভিটামিন A, ভিটামিন C ও অন্যান্য নিউট্রিয়েন্টসে ভরপুর গোলমরিচ।
* ক্যান্সার রোধ করে : ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগ্যান ক্যান্সার সেন্টারের গবেষণায় বেরিয়েছে, গোলমরিচের পিপারাইন কম্পাউন্ড ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধ করতে দারুণ এক্সপার্ট। গোলমরিচে উপস্থিত ভিটামিন A, ভিটামিন C, ফ্ল্যাভোনয়েডস্, ক্যারোটিনস্ ও অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস্ শরীরে ঘুরতে থাকা ক্ষতিকারক পরমাণুদের থেকে কোষগুলিকে রক্ষা করে। ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। তাই রোজ খেতে বসার সময় খাবারে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে খান। ক্যান্সার দূরে থাকবে।
* ওজন কমায় : গোলমরিচে উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস্ শরীরের ফ্যাট সেলগুলি ভাঙতে সাহায্য করে, যার ফলে ওজন কমতে থাকে। এছাড়াও, গোলমরিচের আরও একটি ভূমিকা আছে। খাবারের নিউট্রিয়েন্টকে শরীরে শুষে নিতে সাহায্য করে। শরীর করে তোলে আরও সুস্থ-সবল।
* কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে : খাবার ঠিকমতো হজম না হলে পেট ফুলে যায়, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অম্লশূল হতে পারে। কালো গোলমরিচে উপস্থিত হাইড্রোলিক অ্যাসিড শুধু যে হজম সমস্যা দূর করে তাই নয়, পেটে গ্যাসও তৈরি হতে দেয় না। যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাঁরা রোজ সকালে খালি পেটে ঈষদুষ্ণ জলে এক চা চামচ গোলমরিচ গুলে খান, দেখবেন সমস্যা মিটে গেছে।
* ত্বকের জন্য ভালো : গোলমরিচের অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান ত্বকের নানা সংক্রমণ ও ব্রণ দূর করে, ত্বকে ফোলাভাব আসতে দেয় না। স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন এটি। ত্বকের মরাকোষ বের করে আনে গোলমরিচ। রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। অক্সিজেন প্রবাহণে সাহায্য করে। ত্বককে করে তোলে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
* হাসিখুশি রাখে : মানসিক অবসাদ মিটিয়ে ফেলতে পারে গোলমরিচ। জার্নাল অফ ফুড অ্যান্ড কেমিক্যাল টক্সিকোলজিতে প্রকাশিত রিপোর্টে বেরিয়েছে, গোলমরিচ মস্তিষ্ককে আরও ভালো করে কাজ করতে সাহায্য করে। হতাশা মেটায়। রোজ রান্নায় গোলমরিচ খেলে বুদ্ধি বাড়ে। মন হাসিখুশি থাকে।

No comments:
Post a Comment