ইঁদুর ধরতে বিড়াল বাহিনী নিয়োগ শহরে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 22 March 2020

ইঁদুর ধরতে বিড়াল বাহিনী নিয়োগ শহরে





পর্তুগালের রাজধানী লিসবন বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি শহর। এই শহরের বিড়াল প্রায় নিঃশব্দে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়৷ এবার শহরের প্রায় ছয় কোটি ইঁদুর শায়েস্তা করতে সেই বিড়াল-বাহিনী কাজে লাগানো হচ্ছে৷


সেই লক্ষ্যে সবার আগে বিড়ালগুলোকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে হয় এবং বিড়ালগুলোর জন্য একটা কলোনি তৈরির প্রয়োজন হয় বলে ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে৷

দেশটির স্ট্রিট অ্যানিম্যালস অ্যাসোসিয়েশনের আনা ডুয়ার্তে ও তার পথঘাটের প্রাণীকল্যাণ সংগঠনের সহকর্মীরা বেওয়ারিশ বিড়াল ধরে সেগুলোর পুনর্বাসন করেন৷

আনা ডুয়ার্তে মনে করিয়ে দেন, ‘বিড়াল শিকারি প্রাণী৷ বিড়ালের গন্ধ পেলে ইঁদুর পালিয়ে যায়৷ আমরা বিড়ালের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে ইঁদুর দূরে রাখছি৷’

আর সেই লক্ষ্যেই লিসবনে ‘বিড়াল পেট্রোলিং বাহিনী’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৷ তবে জংলি বিড়াল আকর্ষণ করতে হলে ধৈর্যের প্রয়োজন৷ কিন্তু সেই প্রচেষ্টা বিফল হওয়ায় প্রাণী সংরক্ষণকারীরা বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন৷ পারলে গোটা কলোনি বন্দি করতে চান তারা৷

আনা ডুয়ার্তে বলেন, ‘বিড়াল সহজেই বন্ধু খুঁজে নেয়৷ এই প্রাণী একইসঙ্গে ঘুমায়, খেলা করে৷ ফলে বিচ্ছিন্নভাবে না করে একসঙ্গে সব বিড়ালের পুনর্বাসন করা অনেক সহজ৷’

লিসবন শহরে বিড়ালের প্রায় হাজারখানেক কলোনি বা বসতি রয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে৷ কারও মতে, বিড়াল উপকারে আসে৷ অন্যদের কাছে বেওয়ারিশ বিড়াল বোঝা ছাড়া কিছুই নয়৷

লিসবন পৌর কর্তৃপক্ষের প্রাণী সংক্রান্ত কর্মকর্তা ও ‘ক্যাট পেট্রোল’ প্রকল্পের সহ উদ্যোক্তা মারিসা কারেশ্মা দোস রেইস ঠিক সেটাই প্রমাণ করতে চান৷

তিনি বলেন, ‘বিড়াল ও মানুষের জন্য তো বটেই, এমনকি ইঁদুরের জন্যও এটা ভালো৷ কারণ এটা ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রাকৃতিক পদ্ধতি৷ বিড়ালের ভয়ে ইঁদুর আর দেখা যায় না৷’

শহরে একটি বিড়াল ধরা পড়েছে৷ সেটির চোখেমুখে আতঙ্ক৷ বিড়ালটি এখনও জানে না যে ভালোর জন্যই সেটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷

আনা ডুয়ার্তে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোনও বসতি সম্পর্কে ক্ষোভ থাকলে বিড়ালের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে৷ সেগুলোকে বিষ খাওয়ানো বা নিপীড়ন করা হতে পারে৷ কোনও পুরানো ভবন ভেঙে নতুন করে তৈরির সময় তাদের অন্য কোথাও চলে যেতে হয়৷’

লিসবন শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি স্কুলে এমনই একঝাঁক বিড়ালের নতুন কলোনি হয়ে উঠেছে৷ সারাক্ষণ বিড়াল ঘোরাফেরা করছে৷

স্কুলের সহকারী প্রিন্সিপাল ও শিক্ষিকা হিসেবে আঙ্গেলা লোপেস মনে করেন, এ ক্ষেত্রে সঠিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি৷ তিনি বলেন, ‘আমার মতে, প্রাণীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শেখাও জরুরি৷ আমরা ভালো নাগরিক সম্পর্কে অনেক কথা বলি৷ প্রাণী সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির এটা ভালো উপায়৷’

আনা দুয়ার্তেও এ বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত৷ ‘ক্যাট পেট্রোলিং’ এই উদ্যোগের সূচনা হতে পারে৷ তিনি বলেন, ‘আমার মতে, এটা সূচনামাত্র৷ সমস্যার সমাধান করতে আমাদের আরও মানবিক ও পরিবেশবান্ধব সমাধানসূত্র চাই৷’ 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad