ঘরে বসেই করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ নিয়ে বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠীর নামে একটি অডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
মূলধারার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
গ্রাফিক পাতে ডা. শেঠির একটি ছবি বসিয়ে অডিও বার্তাটি অনলাইনে সম্প্রচার করা হয়েছে। এক পাশে বড় করে কোভিড-১৯ রোগের নামটিও উল্লেখ রয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, 'যদি কারও ফ্লু বা সর্দি থাকে, প্রথমে নিজেকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা আইসোলেট করে লক্ষণ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রথম দিন শুধু ক্লান্তি আসবে। তৃতীয় দিন হালকা জ্বর অনুভব হবে। সঙ্গে কাশি ও গলায় সমস্যা হবে। পঞ্চম দিন পর্যন্ত মাথা যন্ত্রণা। পেটের সমস্যাও হতে পারে। ষষ্ঠ বা সপ্তম দিনে শরীরে ব্যথা বাড়বে এবং মাথা যন্ত্রণা কমতে থাকবে।’
অডিও জানায়, তবে ডায়েরিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পেটের সমস্যা থেকে যাবে। এবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অষ্টম ও নবম দিনে সব লক্ষণই চলে যাবে। তবে সর্দির প্রভাব বাড়তে থাকে। এর অর্থ আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে এবং আপনার করোনার আশঙ্কা নেই।
‘এমন সময়ে আপনার করোনাভাইরাসের পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। কারণ আপনার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। যদি অষ্টম বা নবম দিনে আপনার শরীর আরও খারাপ হয়, করোনা হেল্পলাইনে ফোন করে অবশ্যই পরীক্ষা করে নিন।’
কিন্তু সর্বভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি-ফেক ওয়ার রুম জানিয়েছে, এই বার্তাটি ডা. দেবী শেঠীর না বরং তার নামে প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার ফ্যাক্ট চেক ডা. শেঠীর প্রতিষ্ঠিত নারায়ণা হেলথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছে যে এই অডিও ক্লিপ তার না বরং ভুলভাবে তার নামে প্রচার করা হচ্ছে যে এটি তার।
তবে অডিও ক্লিপে যিনি কথা বলেছেন, তিনি চেন্নাইয়ের অর্থোপেডিক্স সার্জন ডা. সন্তোষ জ্যাকোব। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, "অডিও বার্তায় কথা বলা লোকটি আমিই"।
তিনি বলেন, "আমাদের রোটারি ক্লাবের জন্য অডিওটি আমি করেছিলাম। আমি গিন্ডির রোটাটি ক্লাবের একজন সদস্য। আমাদের কিছু সদস্য করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাদের জন্যই এই অডিও বার্তাটি তৈরি করা হয়েছিল।"

No comments:
Post a Comment