যৌনতা এমন একটি জিনিস, যার স্বাদ সবাই নিতে তো চায়, কিন্তু জনসমক্ষে বলতেই হাজার রকম সমস্যা হয়। আর এই কারণে বহু কিছু কথা অজানা থেকে যায়। তবে বেশ কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন প্রায় সকলের মনেই ঘুরপাক খায়। অথচ লজ্জা কিংবা ভরসার কাউকে না পাওয়ায় অনেকে সে প্রশ্নগুলো করতে পারেন না। ফলে অনেকেই শারীরিক ঘনিষ্ঠতার খুঁটিনাটি নিয়ে নানা কৌতুহল বা সংশয়ে ভোগেন। যেহেতু আমাদের দেশে যৌনমিলন নিয়ে এখনো বিস্তর ট্যাবু রয়েছে, ফলে বহু প্রশ্নই ঠিক কাকে জিজ্ঞেস করা উচিত, সেটা বুঝে উঠতে পারেন না অনেকে।
স্কুলে সেক্স এডুকেশন বাধ্যতামূলক করা হলেও, সেখানেও বহু ফাঁক থেকে গেছে। যার ফলে জরুরি প্রশ্নগুলোর উত্তর মেলে না। তাই সেক্স সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্নোওর দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। জেনে নেওয়া যাক সেসব প্রশ্নোত্তর-
পোশাক খুলতেই অস্বস্তি হয়। কীভাবে স্বাভাবিক হবো?
এটা খুবই কমন একটা প্রশ্ন। নিজের শরীর নিয়ে অনেকের জড়তা কাজ করে। সেই জড়তা পুরোপুরি অনেকেই নানা কারণে পারেন না। এক্ষেত্রে সবার আগে দরকার পার্টনারের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ হওয়া এবং সেটা শুধু বেডরুমে নয় বরং বেডরুমের বাইরেও। নিজের কোন ব্যাপারে আপনি যদি স্বচ্ছন্দ না হন, সেটা নিয়ে সরাসরি পার্টনারের সঙ্গে কথা বলুন। তাতে পার্টনারের সঙ্গে আপনার সম্পর্কও আরও মজবুত হবে।
বিছানায় যদি ঠিকঠাক পারফর্ম করতে না পারি?
সেক্স নিয়ে যে সব সংশয়ে সাধারণত মেয়েরা ভোগেন, সেই তালিকার প্রথমদিকেই রয়েছে এই প্রশ্নটি। আসলে যৌনতার সঙ্গে আমরা অনেকরকম প্রত্যাশা জড়িয়ে ফেলি, ফলে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার ভয়টা থেকেই যায়। এক্ষেত্রে প্রথমত বুঝতে হবে, সেক্সটা কোন রকম পারফরম্যান্স নয়, ফলে এই পারফরম্যান্সটা ভালো বা খারাপ, এ বিষয় নিয়ে দুর্ভাবনার কারণ নেই। সেক্স থেকে প্রতিবার আপনি নতুন নতুন অভিজ্ঞতা পেতে পারেন, এটুকুই। এর সঙ্গে ভালো বা খারাপের কোন যোগ নেই। সংশয় কাটিয়ে উঠতে পার্টনারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তাতেও কাজ না হলে কাউন্সিলরের পরামর্শ নিন।
আমার শরীরের গঠনটা কি স্বাভাবিক?
কোন দু’জন মানুষ এক নন, ফলে তাদের শারীরিক গঠনের মধ্যে তফাৎ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আপনার শরীরের গঠন, স্তন বা যোনির আকার বা শেপ যেমনই হোক না কেন, আপনি ইউনিক। আর চিকিৎসকরা বলেন, স্তন বা যোনির আকার আয়তনের উপর শারীরিক সুখ আদৌ নির্ভর করে না, কাজেই ওইসব নিয়ে চিন্তা করবেন না। সব সময় ভাবুন আপনি স্পেশাল, দেখবেন বাকিটা সহজ হয়ে গেছে!
আমার আর আমার পার্টনারের শারীরিক চাহিদা এক নয়। এটা কি স্বাভাবিক?
দু’জন মানুষ আলাদা, কাজেই তাদের লিবিডো বা যৌন ইচ্ছা আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক। সত্যি বলতে, দু’জনেরই শারীরিক চাহিদা পরস্পরের সঙ্গে একদম খাপে খাপে মানানসই, এমন সম্পর্ক খুবই বিরল! আপনার সঙ্গী যত ঘন ঘন শারীরিক সম্পর্ক চান, আপনি তা চান না, এমনটা হতেই পারে। অথবা উল্টোটাও হতে পারে। এই ভারসাম্যহীনতা নিজেদের মধ্যে কথা বলেই সমাধান করা যায়, কারণ সেক্সই শুধু একটা সম্পর্কের শেষ কথা নয়। আর প্রয়োজন মনে করলে কাউন্সেলর বা চিকিত্সকের সাহায্য তো নেওয়াই যায়!
আমারও কি এসটিডি হতে পারে? এর হাত থেকে বাঁচব কী করে?
এসটিডি অর্থাৎ সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজ়িজ়। এইচআইভি বা এইডস কিন্তু একমাত্র এসটিডি নয়। ক্ল্যামাইডিয়া, গনোরিয়া, জেনিটাল হারপিসের মতো নানাধরনের এসটিডি রয়েছে, যা ছোঁয়াচে। এ সব রোগ থেকে বাঁচতে পার্টনারকে কন্ডম ব্যবহার করতে বলুন, কারণ কন্ডমই সবচেয়ে নিরাপদ। ইন্টারকোর্সের পর জল দিয়ে ভ্যাজাইনা ধুয়ে ফেলুন, তাতে ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে বেরিয়ে যাবে। এছাড়া প্রচুর জল খান। ইউরিনের সঙ্গেও ব্যাকটেরিয়া শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা কি ভালো?
ইন্টারকোর্সের সময় ভ্যাজাইনা স্বাভাবিকভাবেই লুব্রিকেটেড হয়। কিন্তু অনেক সময় মানসিক চাপ, ফোরপ্লে-র অভাব অথবা কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ভ্যাজাইনা শুকনো থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে লুব্রিক্যান্টই হবে আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। ওয়াটার অথবা সিলিকোন-বেসড লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করুন। অয়েল-বেসড লুব্রিক্যান্ট এড়িয়ে যাওয়াই ভালো কারণ তাতে ল্যাটেক্স কন্ডম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া অয়েল-বেসড লুব্রিক্যান্ট যোনির পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, যা থেকে ইনফেকশন হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আমার অর্গাজম হতে সমস্যা হয় কেন?
প্রতিবার শারীরিক সম্পর্কেই যে অর্গ্যাজ়ম হতে হবে তেমন কোনও কথা নেই। সেক্স মানে শুধু পেনিট্রেশন নয়। মাসাজ, ফোরপ্লে, ওরাল সেক্সও অর্গ্যাজ়ম হওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিটোরিস স্টিমুলেশন করলে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাড়াহুড়ো না করে সময় নিন। অর্গ্যাজ়মের কথা ভুলে গিয়ে মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন। বাকিটা স্বাভাবিকভাবেই হবে।

No comments:
Post a Comment