গ্রীষ্ম হোক বা বৃষ্টি স্নানের পরে ভিজা চুল শুকনো বড় ঝামেলার ব্যাপার। তার উপরে চুল যদি লম্বা হয়, তা হলে সমস্যা আরও বাড়ে। আবার গরমে ভিজে চুল নিয়ে বাইরে বের হলে ঘাম আর লবণ মিশে চুলের অবস্থা আরও খারাপ হয়। আর বৃষ্টিতে বাতাসে আর্দ্রতা থাকায় চুল শুকাতে সমস্যা হয়। অথচ চুলের গোড়া ঠিক মত না শুকালে তা খুবই ক্ষতিকারক। গোড়ায় ময়লা জমতে থাকে। ফলে খুশকি, চুল পড়া ইত্যাদি সমস্যা হতে থাকে। তাই তাড়াতাড়ি অফিস যাওয়ার আগে নির্ভর করতে হয় হেয়ার ড্রায়ারের উপরে।
কিন্তু এই ড্রায়ারের মাধ্যমে চুল শুকানো যে আরও কত বড় ক্ষতি করতে পারে তার কোনও সীমা নেই। চুল রুক্ষ হওয়া তো রয়েছেই, এছাড়া হেয়ার ড্রায়ারের গরম হাওয়া মাথার ত্বকেরও ক্ষতি করে। ঘন ঘন হেয়ার ড্রায়ার চুলের গোড়াকেও নষ্ট করে। তাই হেয়ার ড্রায়ার ছাড়া চুল শুকাতেই পরামর্শ দেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা। জেনে নিন কয়েকটি কৌশল, যা আপনি ড্রায়ারের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারবেন--
সময় লাগলেও চেষ্টা করুন রোদ, হাওয়া বা ফ্যানের দ্বারা চুল শুকনোর। কোনও টেবিল ফ্যান থাকলে তার সামনে চুল শুকান।
অনেকেই মোটা টাওয়েল দিয়ে চুল মোছেন। এতেও চুলের ক্ষতি হয়। এতে চুলের আগা ফেটে যায়। বদলে পাতলা কাপড় দিয়ে অনেক ক্ষণ ধরে মাথা মুছুন। এতে চুলের ভেজা ভাব অনেকটা কমে যাবে। প্রাকৃতিক ভাবে শুকাতে সময় লাগবে না। ফলে আর ড্রায়ারের প্রয়োজন পড়বে না।
তবে গামছা দিয়ে জোরে চুল ঝাড়বেন না। কিছুক্ষণ শুকনো কাপড় পেঁচিয়ে রাখুন। এতে চুলের জল অনেকটাই শুকাবে। চুলের কিছু অংশ, বিশেষ করে গোঁড়া শুকালে, বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে ফ্যানের নিচে বসুন। এতে বাকি চুলও তাড়াতাড়ি শুকাবে।
চুল হালকা ভেজা থাকতেই লিভ-ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এতে চুল ফুলে থাকে ও সুগন্ধও থাকে। আর চুল আরও মোলায়েম হয়।
চুল ভেজা অবস্থায় আঁচড়ানোর আগে সিরাম লাগান। এতে চুলে জট ছাড়বে। চুলের মধ্যে বায়ু যেতে পারবে। ফলে চুল শুকাবে তাড়াতাড়ি।
চুল যদি অয়েলি হয়, তা হলে সেই বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করবেন না। এতে চুল শুকাতে সময় লাগে। কন্ডিশনারের বিকল্প কোনও সিরাম বা জেল ব্যবহার করুন।
ভেজা চুল নিয়ে ঘুমাতে যাবেন না। আর চুল আঁচড়ানোর সময়ে কখনই চিকন দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করবেন না। গোঁড়া শুকানোর জন্য মাথা নিচু করে চুল সামনের দিকে এনে ফ্যানের নিচে বসে থাকুন।

No comments:
Post a Comment