ভগবানের কাছে আমরা সবসময় কিছু না কিছু চেয়ে থাকি। তার মধ্যে হয়ত কিছু পূরণ হয়, কিছু হয়ত হয় না। তবে এমন কিছু স্থান আছে, যেখানে গিয়ে ভগবানের দর্শন করলে তিনি কখনই নিরাশ করেন না- এমনটাই আমরা বিশ্বাস করে থাকি। তেমনই একটি মন্দিরের কথা জানাতে আজকের এই লেখা।
আমাদের দেশে এমন অনেক প্রাচীন মন্দির এখনও আছে যেগুলি খুব বিখ্যাত একমাত্র জাগ্রত দেবতার কারণেই। গ্বালিয়র থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে মুরেনা জেলার এন্তিতে একটি শনি মন্দির রয়েছে যেটা ত্রেতা যুগে তৈরী বলে মনে করা হয়। এই একটি কারণেই এই শনি মন্দিরটি সারা ভারত জুড়ে বিখ্যাত।




এই মন্দিরে যদি পুজো করা যায়, তাহলে ভালো ফল পাওয়া যায় বলেই ধারণা ভক্তদের। রাজা বিক্রমাদিত্য শনিদেবের এই মন্দিরের প্রথম নির্মাণকার্য শুরু করেছিলেন। তার পরে সিন্ধিয়া শাসকেরা ক্ষমতায় এসে এই মন্দিরের সংস্কার করেন। ১৮০৮ সালে গ্বালিয়রের তৎকালীন মহারাজা দৌলতরাও সিন্ধিয়া এর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
১৯৪৫ সালে দেবস্থান বোর্ডের দায়িত্বে চলে আসে এই মন্দির। ভক্তরা এখনও বিশ্বাস করেন যে, এই মন্দিরের শনি প্রতিমাই হচ্ছে শনিদেবের আসল রূপ। শনির প্রকোপের হাত থেকে বাঁচতে হাজার ভক্ত এখনও এখানে এসে পুজো করেন। তাঁদের ধারণা শনিদেবের পুজো করলে তিনি সবার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন।
জানা গেছে, এখানে পুজো করার পর ভক্তরা তাঁদের কাপড়, জুতো, চপ্পল ইত্যাদি ছেড়ে রেখে যান। এর ফলে নাকি পাপ ও দারিদ্র থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হাজার বছর আগের তৈরি এই মন্দিরে এখনও বিদেশীরা আসেন। শনিদেবের শক্তি এই মন্দিরের মধ্যেই রয়েছে বলে সবাই মনে করেন। তাঁর কাছে এসে যদি নিজের সুখ-দুঃখের কথা বলা যায়, তাহলে নাকি তিনি সব লাঘব করে দেন বলেই বিশ্বাস ভক্তদের।

No comments:
Post a Comment