মরার পর আমাদের সাথে কি হয়, সেটা নিয়ে আমরা বেশ কৌতূহলী। তবে, মরে গিয়ে আপনি যে ভূত হবেনই, তেমন কোনও গ্যারান্টি নেই। কিন্তু, একথা আমরা জানি যে, মানুষ মরে গিয়েই ভূত হয় এবং কিছু দিন পরে প্রেতদশা থেকে মুক্তি ঘটে। কতদিনে সেই মুক্তিটি ঘটে, তা অবশ্য কেউই বলতে পারেন না। তবে, যতদিন মুক্তি না ঘটছে, ততদিন আপনি ভূত। আবার সব ভুত একরকমের হয় না। এদের আবার বিশেষ ভাগও লক্ষ্য করা যায়।
কেন এত বিপুল বৈচিত্র্য ভূত-জগতে? এই প্রশ্ন করলে বহু ভূত-বিশারদ বলে থাকেন, ইহজন্মের স্বভাবই নাকি পরলোকে ছায়া ফেলে। এই জীবনে আপনি যেমন আচরণ করে চলেছেন, সেই অনুযায়ী নাকি আপনার প্রেতদশার চরিত্রও নির্দিষ্ট হয়ে রয়েছে।
এখানে একটি তালিকা পেশ করা হল। কোন স্বভাবগুণ আপনাকে কোন ভুত তৈরি করবে, তা এখান থেকে মিলিয়ে নিতে পারেন।
১. শাঁখচুন্নি— আপনি তেমনই একজন নারী, যিনি ঘ্যান ঘ্যান করেন, খুঁত খুঁত করেন। আপনার ঘ্যান ঘ্যান খুঁত খুঁতের জ্বালায় বাড়ির লোক তটস্থ। আপনার গতি শাঁখচুন্নির দিকেই।
২. মেছোভূত— অতিরিক্ত মাত্রায় মাছ ভালবাসেন? পাতে মাছ না থাকলে মুখে ভাত রোচে না? একদিন মাছ রান্না না হলে বাড়ি মাথায় তোলেন অথবা গোসা করে ঘরে খিল দেন? এই প্রেতদশা আপনার জন্য অপেক্ষারত।
৩. যখ— অতিরিক্ত হিসেবি কি আপনি? মানে, লোকে আড়ালে আপনাকে কি ‘কৃপণ’ বলে ডাকে? সাবধান! যখের ধন সামলানোই আপনার ভবিতব্য।
৪. স্কন্ধকাটা— নিজেকে দারুণ বুদ্ধিমান ভাবেন? মনে করেন, আপনার থেকে বেশি বুদ্ধি আর কারওর মাথাতেই নেই? মাথা নিয়ে এত গর্ব আপনাকে স্কন্ধকাটা দশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, ভুলবেন না।
৫. বোবাভূত— একা থাকতে ভালবাসেন? এতটাই একা থাকার বাসনা যে, লোকে আপনাকে ‘অসামাজিক’ বলে পিছনে? কথা কম বলতে বলতে আপনি এই জন্মেই ভুতুড়ে হয়ে রয়েছেন। আপনার পরিণতি শেষমেশ বোবাভূত।
৬. কানাভুলো— প্রায়শই রাস্তা হারান? জিনিস এক জায়গায় রেখে অন্যত্র খুঁজে হয়রান হন প্রায়শই? বাংলার এই প্রাচীন প্রেতদশার দিকে আপনার জন্য লাল কার্পেট বিছানো।
৭. ব্রহ্মদৈত্য— না, কেবল ব্রাহ্মণ মরেই ব্রহ্মদৈত্য হয় না। নিজেকে অতিরিক্ত শুদ্ধ ভাবেন, শুচিবায়ুগ্রস্ততা প্রায় কিংবদন্তির লেভেলে, লোককে জ্ঞান চিতে পারলে আর কিছুই চান না, এই সব ‘বামনাই’ থাকলেই আপনি সো-জা বেলগাছে।
বি দ্র: এই লেখা নিছকই একটি রসিকতা। সকলের মনোরঞ্জনের জন্য এই প্রতিবেদন।

No comments:
Post a Comment