এ কথা অনেক নারীই জানেন না যে, তাঁদের গোপন অঙ্গের গন্ধ (smell) সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। পিরিয়ড, যৌন মিলন থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন দিনযাপনও প্রভাব ফেলে গোপন অঙ্গের গন্ধে (smell of secret organs) এবং কখনও কখনও তৈরি করে দুর্গন্ধ।
তবে এই বিষয়টি নিয়ে লজ্জিত হওয়ার চাইতে চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন বেশী, কেননা গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ মূলত নানান রকমের অসুখ-বিসুখের লক্ষণ। জেনে নিন গোপন অঙ্গে কয়েক রকমের দুর্গন্ধ সম্পর্কে। জেনে নিন কখন যেতে হবে ডাক্তারের কাছে এবং প্রতিকারের কিছু উপায়:
১) ঘাম ( sweating) বা ঘাম জমে থাকার গন্ধ
একটি সুস্থ নারী শরীরে এটি খুবই স্বাভাবিক এবং এমন গন্ধ থাকতেই পারে। আপনি যদি গরমের দেশের বাসিন্দা হয়ে থাকেন কিংবা সারাদিন এমন কাজ করেন যে প্রচুর ঘামতে হয়, সেক্ষেত্রে ঘামের গন্ধ বা দীর্ঘ সময় ঘামে ভেজা অন্তর্বাস পরে থাকায় বাজে গন্ধ হতেই পারে। তবে এটি খুবই স্বাভাবিক, চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই। দিনে দুবার অন্তর্বাস বদলে ফেলুন, নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখুন।
২) বিচ্ছিরি আঁশটে গন্ধ (Smell )
যদি নিজের শরীরের এই বিশেষ স্থান থেকে তীব্র আঁশটে গন্ধ পান এবং যদি এই গন্ধ যৌন মিলনের পর বৃদ্ধি পায়, তবে বিষয়টিকে অবহেলা করবেন না মোটেও। এটি হতে পারে গোপন অঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে, যার ফলে উক্ত অঙ্গের পিএইচ ভারসাম্য এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
৩) ব্লিচ বা ক্লোরিনের মত গন্ধ
যৌন মিলনে কনডম বা লুব্রিকেনট ব্যবহার করলে গোপন গঙ্গে ঝাঁঝালো এক রকমের গন্ধ হতে দেখা যায়, যা পণ্য থেকে পণ্যে বদলে যায়। ব্লিচ বা ক্লোরিনের মত গন্ধে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, এটা কেবল কনডম বা লুব্রিকেনট-এর জন্য হচ্ছে।
৪) বাসি রুটি বা চীজের মত গন্ধ
গোপন অঙ্গে এমনিতেই খানিকটা ইস্টের উপস্থিতি থাকে। তবে বিষয়টি ইনফেকশন হয়ে দেখা যায় যখন এই ইস্টের সংক্রমন বাড়ে। এই ইস্ট ইনফেকশন একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। যদি বিশেষ অঙ্গ ঠেলে পচা রুটি বা পুরনো চীজের মত গন্ধ পেতে থাকেন, দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান।
৫) হালকা রক্তের গন্ধ
যদি পিরিয়ডের সময়ে গোপন অঙ্গ থেকে তীব্র রক্তের গন্ধ পান, সেটা নিয়ে মোটেও চিন্তিত হবেন না, এটা খুবই স্বাভাবিক। পিরিয়ডের আগে বা পরে হালকা ভাবে এই গন্ধ পেলেও চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এটা একদমই স্বাভাবিক।
৬) ঝাঁঝালো প্রস্রাবের গন্ধ (The smell of vaporized urine)
এমন গন্ধ হতে পারে ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ। যদি গন্ধের সাথে প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গোপন অঙ্গের গন্ধে আছে খাবারের ভূমিকা
হ্যাঁ, একদম ঠিক পড়েছেন। আপনর গোপন অঙ্গে যদি দুর্গন্ধ হয়ে থাকে, সেটার পেছনে আপনার খাদ্যাভ্যাসের একটা বড় ভূমিকা আছে। টক ফল যেমন কমলা, লেবু, আনারস, গ্রেপ ফ্রুট ইত্যাদি খাবার গোপন অঙ্গের গন্ধকে মিষ্টি করে তোলে। অন্যদিকে পেঁয়াজ, রসুন, ব্রকলি ইত্যাদি খাবার বাজে গন্ধ সৃষ্টির জন্য দায়ী ।

No comments:
Post a Comment