করোনা আতঙ্কে বিশ্ব জুড়ে সকলের নাভিশ্বাস উঠেছে। সেখানে অনেকেই এর থেকে বাঁচতে নানা রকম পরামর্শ দিয়ে চলেছেন, যা অনেকে আবার মেনেও নিচ্ছেন। এই সময় আমাদের সকলের মধ্যেই যেন কেমন একটা পরামর্শ দেওয়ার প্রবণতা চলে এসেছে। আসলে সবাই তো চাইছি করোনা থেকে মুক্তি পেতে। গবেষকেরা নিরন্তন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনাকে বাগে আনতে। এরই মধ্যে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা তাড়াতে নতুন নিদান নিয়ে হাজির হলেন; একে তাড়াতে দরজা জানালা খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা।
সোমবার সরকারি দপ্তর নবান্নে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন মমতা ব্যানার্জি। যদিও জানলা দরজা খোলা রেখে ভাইরাস তাড়ানোর নিদান মানতে পারছেন না চিকিৎসকরা।
দেশের বিভিন্ন মতাদর্শের লোকজনের পর এবার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নতুন দাওয়াই দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ, 'দরজা-জানালা খোলা রাখুন, করোনা ভাইরাস বেরিয়ে যাবে।'
সোমবার সরকারি দপ্তর নবান্নে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন মমতা ব্যানার্জি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি সবাইকে বলব, ঘরের দরজা-জানালা খোলা রাখুন। এসি ঘর হলেও জানালা খোলা রাখুন। হাওয়া বাতাস খেললে অনেক ভাইরাস জানালা দিয়ে বেরিয়ে যায়।'
সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ যোগ করে বলেন, 'একথা যদিও আমাকে বিশেষজ্ঞরা বলেননি। তবে তাই তো সবাই বলে।' খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
সোমবার নবান্নে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ২০০ কোটি টাকার তহবিল তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে জানিয়েছেন, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পশ্চিমবঙ্গের যাবতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
যদিও জানালা-দরজা খোলা রেখে ভাইরাস তাড়ানোর নিদান মানতে পারছেন না চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা বলছেন, দরজা-জানালা খোলা রাখলে ঘর স্বাস্থ্যকর থাকে ঠিকই, তবে তা গ্রামের নির্মল পরিবেশে। শহরের দূষণে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ না-মানাই ভাল। আর এর সঙ্গে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এড়ানোর কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ করোনা ভাইরাস ছড়ায় মানুষ থেকে মানুষে। ফলে ঘর যতই স্বাস্থ্যকর হোক না কেন, উল্টোদিকের ব্যক্তিটি আক্রান্ত হলে আপনারও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

No comments:
Post a Comment