কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর তিনদিন আগে ঘোষণা করেছিলেন দলের পুরোনো নেতা ও কর্মীদের ফিরিয়ে আনতে হবে। মালদার গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বুধবার মালদার সুজাপুরে গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে প্রকাশ্যেই কর্মী সভা মঞ্চে জেলা নেতাদের নাম ধরে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আক্রমণাত্মক। গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জীর্ণ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দেন তিনি। পাশাপাশি কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, বাবলা সরকারের নতুন পুরনো তৃণমূল নেতাদের কাঁধে পুরভোট, বিধানসভা ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। ডানা ছাটা হয় অন্য দল থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া ইংরেজবাজারের বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষ, গাজোলের বিধায়ক দিপালী বিশ্বাসের মতন নেতা নেত্রীদের।
পাশাপাশি তিনি মালদার মানিকচকের প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র,জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মন্ডলের গোষ্ঠী কোন্দল মিটিয়ে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার জন্য পরামর্শ দেয়। রতুয়া দাপুটে যুব তৃণমূল নেতা মহন্মদ ইয়াসিনের রাশ জানার জন্য জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, পুরাতন মালদার চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিভূতি ঘোষের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কার্তিক ঘোষকে প্রকাশ্যেই ধমক দেন। মোথাবাড়ির গতবারের তৃণমূল প্রার্থী নজরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন আগামী পুরভোটে শহরের কৃষ্ণেন্দু প্রভাবিত এলাকাগুলি নেতৃত্ব কৃষ্ণেন্দুর হাতেই থাকবে। শহরের পশ্চিম শহরতলীর ওয়ার্ড গুলিতে নেতৃত্ব দেবেন বাবলা সরকার।
বর্তমান চেয়ারম্যান নিহার রঞ্জন ঘোষের ডানা ছেঁটে ওয়ার্ডের হাতেগোনা কয়েকটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাবলা সরকারকে বলেন ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদা থেকে বেরিয়ে জেলার অন্যান্য জায়গায় গিয়েও সংগঠন মজবুত করতে। ইংরেজবাজারের পাশাপাশি হবিবপুর ও দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় কৃষ্ণেন্দুকে। সাবিত্রী মিত্রকে কেবল মানিকচকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।তাকে সহযোগিতা করার জন্য ওই এলাকারই নেতা তথা মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডলকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
যৌথ নেতৃত্ব পরিচালনা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় মৌসম বেনজির নুরকে। পুনরায় মালদা জেলার অবজারভার নিযুক্ত করা হয় শুভেন্দু অধিকারীকে।আর এই ভাবেই গোষ্ঠী কোন্দল মিটিয়ে আগামী দিনে ভালো ফল করার জন্য নতুন করে সংগঠনের রূপরেখা তৈরি করে এই কর্মী সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি এদিকে সি এ এ ও এন আর সি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে নতুনভাবে পথে নামার নির্দেশ দেন। মালদা জেলায় কংগ্রেস-বিজেপি আতাঁত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এদিনের কর্মীসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা নেতৃত্ব ও কয়েক হাজার জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।

No comments:
Post a Comment