বর্ধমানে আজ হোলি খেলা বারণ। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রথা আজও কঠোরভাবে মেনে চলেন বর্ধমানের মানুষ। ঠাকুরের পায়ে আবির ছড়ানো ছাড়া আজ বর্ধমানের মানুষ হোলি খেলবেন না। খেলবেন কাল।
বর্ধমানের রাজার আমল থেকে এই প্রথা চলছে বর্ধমানের রাজারা ছিলেন অবাঙালি। তাদের উপাস্য দেবতা ছিলেন লক্ষীনারায়নজিউ। এই লক্ষ্মীনারায়নজিউ মন্দিরে দোলের দিন ঠাকুরের পায়ে রং দেওয়া হতো। হোলি কে কেন্দ্র করে নানা উৎসব আচার-অনুষ্ঠান হতো। এইসব করতে করতে বেলা গড়িয়ে যেত।
প্রজা বা সাধারণ মানুষেরা আর হোলি খেলতে পারতেন না। তাই বর্ধমান রাজ পরিবার থেকে এই প্রথা চালু করা হয়েছিল যে; দোলের দিন শুধু ঠাকুরের হোলি হবে। পরের দিন ঠাকুরের পায়ের রং নিয়ে হোলিতে মাতবে বর্ধমান।
এতদিন এরকমটাই হয়েছে। পর প্রজন্ম বর্ধমানের মানুষ এই উত্তরাধিকার বহন করেছেন। বিকল্প করার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। রাজপরিবারের পুরোহিত জানিয়েছেন; জমিদারি প্রথার অবসানের পর রাজপরিবারের দোলে আর সেই জৌলুস নেই। তবুও এখনো কিছু মানুষ আছেন।
তারা ঠাকুরের এই দোলের দিনে অংশ নেন। লক্ষীনারায়ন মন্দিরর আসেন তারা। কিন্তু মূল প্রথা অর্থাৎ পরেরদিন দোল খেলার প্রথা আজও রয়ে গেছে। আজ ঠাকুরের দোল ;কাল মানুষের দোল। এখন আর কেউ রাজপরিবারের প্রজা না হলেও কালই দোল খেলবেন বর্ধমানের মানুষ।

No comments:
Post a Comment