বিকাল বেলা প্রকাশ্য দিনের আলোয় থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ থানা থেকে মেরেকেটে এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজ বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে বিকাল পাঁচটার মধ্যে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের গৃহকর্তা তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা গৌতম সাহার বাড়ী কুমারগঞ্জ থানা সংলগ্ন উত্তর কুমারগঞ্জ গ্রামে। দুপুরে ব্যবসার কাজে গৌতম বাবু ও তার একমাত্র ছেলে বাড়িতে ছিলেন না এবং তার স্ত্রী আজ উপোস ছিলেন বাড়ির পাশের এক বাড়ির কালী পূজা উপলক্ষে।
তিনি ঘন্টা খানেকের জন্য পাশের সেই পুজো বাড়িতে গিয়েছিলেন পুজোর আনুষঙ্গিক কাজকর্মের জন্য। সন্ধ্যে নামতে চলেছে দেখে তিনি বাড়িতে আসেন সন্ধ্যা প্রদীপ দেখানোর জন্য। বাড়িতে প্রবেশ করেই চক্ষু চরক গাছ হয় তার। তিনি দেখতে পান তার বাড়ির গ্রিলের কাটা অবস্থায়। এর পর লক্ষ্য করেন শোবার ঘরের দরজার হাঁসবোল্ড দরজার পাল্লা থেকে উপরে ফেলা অবস্থায়। ঘরে ঢুকে দেখতে পান তার বক্স খাটের লক ভাঙা।
এরপর সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে লক্ষ্য করেন সমস্ত সোনার গহনার বাক্স গুলো পড়ে রয়েছে। এসব দেখে গৃহবধূ কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার কান্নার আওয়াজে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর দেয়া হয় কুমারগঞ্জ থানায়। পুলিশ এসে ফাঁকা পড়ে থাকা সোনার অলংকারের কেস গুলো পুলিশ তদন্তের স্বার্থে থানায় নিয়ে যান এবং বদ্ধ ঘরে পরিবারের লোকেদের সাথে সমস্ত বিষয়ে কথা বার্তা বলেন।
পরিবারের লোকেরা মানসিক ভাবে ভীষণ ভেঙে পড়ায় সঠিক কিকি চুরি গেছে তা বলতে পারেন নি। যদিও লাখ দশেক টাকার সোনার অলংকার চুরি গেছে বলে অনুমান তাদের। থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে দিনের আলোকে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্থানীয় কুমারগঞ্জ থানার পুলিশের ভূমিকাকে দুষছেন স্থানীয়রা। অনেকেই আবার বলছেন একই পাড়ার মধ্যে দুখানি সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত মদের দোকান থাকায় এলাকার যুব সমাজ নষ্টের পথে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী জানান, এলাকায় মদের দোকান ও আবগারি দপ্তরের অফিস যে রাজ্যে সহাবস্থান করে, সেদেশে সাধারণ মানুষের দুর্দশা কেন বাড়বে না। এর পূর্বেও স্থানীয় কুমারগঞ্জ মসজিদ পাড়ার মসজিদের জলের মোট , বিভিন্ন রাস্তার সোলার লাইটের ব্যাটারি , কুমারগঞ্জ বাজারে দোকান কেটে চুরির ঘটনা এক নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে কুমারগঞ্জ থানার পার্শবর্তী গ্রাম গুলিতে।
কিছুদিন পূর্বেই কুমারগঞ্জ থানা থেকে এক শত মিটারের মধ্যে এক বাড়ির সিঁড়ির দরজা কেটে ছাদ দিয়ে ঘরে ঢুকে বেশ কয়েকটি আলমারির লক ভেঙে বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী ও দামি একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনার কোনো কুলকিনারা এখনো পর্যন্ত করে উঠতে পারেনি পুলিশ। তবে চুরির প্যাটার্ন দেখে সহজেই অনুমেয় এই চুরির পেছনে খুব পরিচিত বা স্থানীয় লোকের হাত থাকতে পাড়ে।

No comments:
Post a Comment