অ্যাকাউন্ট
খুললেই প্রতিমাসে মিলবে ১০০ টাকা। আর সেই ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়েছেন গাইঘাটা থানার
তেতুলবেরিয়া গ্রামের কয়েকশ মানুষ।প্রতারিত
গ্রামবাসীদের অভিযোগ একটি ব্যাঙ্ক
অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার কথা বলে কাগজ পত্র নিয়ে একই নামে একাধিক ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলে চলছে লেনদেন। যার কিছু জানেন
না গ্রাহকরা।গ্রামবাসীদের অভিযোগ এই প্রতারনার কাজে যুক্ত রয়েছেন স্থানীয় দেবাশীষ মন্ডল নামে এক ব্যাক্তি।
পুলিশ
এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গাইঘাটা থানার তেঁতুলবেড়িয়া এলাকায় থাকেন দেবাশিস মন্ডল।অভিযোগ তিনি তার এলাকার প্রায় ৫০০ লোকের কাছ থেকে কাগজপত্র
নেয় জিরো ব্যালেন্সের অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার জন্য। গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছিল
একাউন্টে প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে পাওয়া যাবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ দুই বছর কেটে
গেলেও কেউ একটি পাশ বই হাতে পায় নি। এক বার ১০০ টাকা করে পেলেও পরে আর কোন টাকা
তারা পান নি। সম্প্রতি একজন গ্রামের মানুষ দেবাশিষের কাছ থেকে ব্যাংকের পাশবই নিয়ে আপ টু ডেট করে দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে
একাধিকবার টাকা লেনদেন করা হয়েছে।
এই ঘটনা সামনে আসার পরেই হুস ফেরে গ্রামবাসীদের।তারা প্রতারিত হয়েছেন
বলে বুঝতে পারেন।এরপরেই একত্রিত হয়ে গ্রামবাসীরা চড়াও হন দেবাশীষের বাড়িতে।গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে চেপে
ধরতেই দেবাশীষ স্বীকার করে নেয় কমবেশি সকলের নামেই একাধিক একাউন্ট খোলা হয়েছে।
যা থেকে টাকা লেনদেন করা হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ তাদের গ্যাসের টাকা থেকে জব কার্ডের টাকা একাউন্টে জমা পড়েছে।কিন্তু
তাদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দেবাশীষ।
এই ঘটনার জেরেই রবিবার গাইঘাটা থানার পুলিশের
কাছে অভিযুক্ত দেবাশিষের বিরুদ্ধে একটি মাস পিটিশন জমা দেন এলাকাবাসী। এই বিষয়ে
রবিবার রাতেই স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা গ্রামে একটি সালিশি সভা করেন।
এই বিষয়ে গাইঘাটা পঞ্চায়ের
সমিতির সভাপতি গোবিন্দ দাস বলেন, এই ধরনের কাজের সঙ্গে
যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে উপযুক্ত শাস্তি ব্যাবস্থা করা হবে। রবিবার থেকেই অভিযুক্ত দেবাশীষ মন্ডল
পরিবার নিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে বেপাত্তা হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গাইঘাটা থানার পুলিশ।

No comments:
Post a Comment