করোনার জেরে মাথায় হাত পড়লো কালিয়াগঞ্জ শহরের পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 29 March 2020

করোনার জেরে মাথায় হাত পড়লো কালিয়াগঞ্জ শহরের পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের



করোনা মহামারির জেরে মাথায় হাত পড়লো উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরের দক্ষিণ আখানগর পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের। বাসন্তী সহ অন্যান্য প্রতিমার একাধিক অর্ডার বাতিল হওয়াতে বিপাকে পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা।




সোমবার বাসন্তী পুজোর মহাষষ্ঠী। তার আগে প্রতিমার অর্ডার বাতিলের হিরিক পড়ায় চরম আর্থিক লোকসানের মুখে কালিয়াগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা। মার্চের শেষে বাসন্তী পুজো ও এপ্রিলের ১৩ তারিখ চৈত্র সংক্রান্তি এবং ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ। করোনার জেরে কেন্দ্র সরকার ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লক ডাউন ঘোষনা করেছে।




ফলে বাসন্তী পুজো থেকে পয়লা বৈশাখ  পর্যন্ত সমস্ত পুজোর আয়োজন নিয়ে সংকটে গৃহস্থেরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রতিমা গড়ার পেশায় যুক্তদের উপর। তৈরি প্রতিমা নেবার লোক নেই, নতুন করে প্রতিমার অর্ডার নেই। মন্দিরে মাটির প্রতিমা দেবতা রুপে পূজিতা হলেও মৃৎশিল্পীর ঘরে তার মুল্য নেই।





অর্ডার বাতিলের জেরে ঘরে থেকে যাওয়া এই মাটির প্রতিমা নিয়ে এখন বিপাকে কালিয়াগঞ্জ শহরের পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। এই লোকসান সামাল দিতে সরকারি সহায়তা চাইছে মাটির প্রতিমা গড়ার কারিগর মৃৎশিল্পীরা। বারোয়ারী বাসন্তী পূজো চালু রাখার পথ খুঁজতে এই মৃৎশিল্পীরা দরবার করেছিলেন কালিয়াগঞ্জের পুরপ্রধানের কাছে।






লক ডাউনে সরকারি বিধি নিষেধের কারনে মৃৎশিল্পীদের সংকট কাটাতে কোন পথের সন্ধান দিতে পারেনি পুরপ্রধান। ফলে সংকট আরোও ঘোরালো হয়েছে পেশাদার প্রতিমা শিল্পীদের কাছে। দক্ষিণ আখানগর পালপাড়ার প্রবীন মৃৎশিল্পী সুধাংশু পাল জানান তিনটি বাসন্তী প্রতিমার অর্ডার বাতিল হয়েছে।




এছাড়াও শিবকালী সহ অন্যান্য ছোট প্রতিমার একাধিক অর্ডার বাতিল হওয়াতে পেটের খাবার যোগারে সংকট তৈরি হয়েছে। দূর্গার মতোই বাসন্তী প্রতিমা। লক্ষ্মী,গনেশ,সরস্বতী, কার্তিক মিলিয়ে দশভুজা বাসন্তী প্রতিমা গড়তে খরচ হয় কয়েক হাজার টাকা। এই প্রতিমা সাইজ অনুযায়ী ৫-৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।





করোনা বলে যে সমস্যা চলছে তার জন্য প্রতিমা নেবেনা বলে জানিয়ে গেছে তিনটি পূজা কমিটি। এই পূজোগুলি যাতে বন্ধ না হয়, সেই আবেদন নিয়ে কালিয়াগঞ্জের পুরপ্রধান কার্তিক পালের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পুরপ্রধান কোন ব্যবস্হা করতে পারেননি সরকারি নিষেধাজ্ঞার জন্য। বিপদ শুধু বাসন্তী প্রতিমা নিয়ে নয়। চৈত্র সংক্রান্তি সহ অন্যান্য পুজোর প্রতিমার অর্ডার আসা বন্ধ হয়েছে।




আমাদের পেট চলে এই প্রতিমা গড়ে, অন্য কোন কাজ জানিনা। এখন সংসার চলবে কি ভাবে তা ভেবে কুল পাচ্ছিনা। এই বিপদে সরকার তাদের পাশে দাড়ালে ভালো হয় বলেন সুধাংশু পাল। পালপাড়ার অপর প্রতিমা শিল্পী পীযুষ পাল বলেন বারোয়ারী বাসন্তী পুজোর প্রতিমা নিয়ে বিপদে পড়েছি। যাদের অর্ডার নিয়েছিলাম, তারা এসে জানিয়ে গেছে করোনার জন্য পুজো হবেনা। প্রতিমা নেবেনা।





এখন কি হবে এই প্রতিমার? উত্তর খুঁজছেন পীযুষ। করোনা লক ডাউনের কোঁপে এবারে পয়লা বৈশাখে প্রতিমা শিল্পীদের ক্ষতি আরোও বেড়েছে। আকারে ছোট হলেও পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে প্রচুর গনেশ প্রতিমা বিক্রি হয়। এবারে তা হবে কিনা, তা নিয়ে পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের দুঃশ্চিতার পারদ আরেও বৃদ্ধি পেয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad