দৃষ্টিহীন ও বেকারত্বের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে স্বপরিবারে স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 12 February 2020

দৃষ্টিহীন ও বেকারত্বের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে স্বপরিবারে স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন




নিজস্ব সংবাদদাতাঃ  ঠিক মত চোখে না দেখার কারণে কাজ মিলছে না। অন্যদিকে কাটমানি দিতে না পারায় সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পরিবারসহ স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন সরকারের কাছে।

 মালদা জেলার চাঁচল ২ নম্বর ব্লকের মালতি পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াটোলা গ্রামের নিতাই দাস তিনি দুই চোখে ঠিকমতো দেখতে পান না। যার জন্য কর্ম ক্ষমতা হারিয়েছে, ঠিকমতো চোখে না দেখতে পাওয়ার কারণে কাজ মিলছে না কোথাও। একদিকে বার্ধক্য, অন্যদিকে দৃষ্টিহীন চরম বিপাকে পরিবার।

পরিবারের চারজন সদস্য এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে। এক বেলা খায় ও দুই বেলা পেট পুরে খেতে পায়না পরিবারটি, অভাবে তাড়নাকে পিছনে রেখে ছেলেটি এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলেছে। অথচ সরকারিভাবে কোন সুবিধাই পায়নি এই পরিবারটি। অনেকবার  সরকারি বাড়ী নেওয়ার জন্য আবেদন পত্র জমা করেছিল, লিস্টে নাম উঠেছিল কিন্তু কাটমানি না দিতে পারার কারণে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে নিতাই দাস।

অভিযোগ, মালতি পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আগে কংগ্রেস পরিচালিত মেম্বার এবং প্রধানদের একাধিকবার অনুরোধ করলেও কোনরকম সুবিধা মেলেনি পরিবারটির। বর্তমান তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধান সহ মেম্বারের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও শুধু হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। যার কাছেই যাচ্ছেন অগ্রিম কাটমানির দাবি করে। তাই সরকারের কাছে পরিবারটি আবেদন, 'আমাদের সরকারি সুবিধা দেওয়া হোক না হলে পরিবার সহ স্বেচ্ছামৃত্যুর আদেশ দেওয়া হোক।'

 বর্তমান শাসকদলের বিভিন্ন নেতা নেত্রী বর্গরা দিদিকে বল কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে খাওয়া-দাওয়া করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে। কিন্তু চাঁচল ২ নম্বর ব্লকের মালতিপুর নয়াটোলা গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে কেউ পৌঁছালো না এখন পর্যন্ত। এমনকি মালতিপুর পঞ্চায়েত প্রধানকে বাবার জানানো সত্ত্বেও কোনরকম কর্ণপাত করে না এই ঘটনার। নয়াটোলা গ্রামের প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই বিভিন্ন সমস্যায় রয়েছে সবাই। কেউ বিধবা ভাতা পাচ্ছে না, কেউ বাড়ী নেওয়ার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েও বাড়ী পায়নি। এমনটাই অভিযোগ গ্রামবাসীদের। এ খবর পেয়ে মালদা থেকে ছুটে যায় সমাজসেবী শুভদীপ সরকার। তিনি চাঁচল ২ নম্বর ব্লকের বিডিও সাহেব অমিত কুমার সাউকে বিস্তারিত জানান। তারপর বিডিও সাহেব বলেন, 'বিষয়টি যদিও আমার জানা ছিল না, আমি খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে যতটা সাহায্য করার সে ব্যবস্থা করছি।'

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad