নিজস্ব সংবাদদাতা,১৮ ফেব্রুয়ারিঃ আশঙ্কা সত্যি হল। আসলের সঙ্গে হুবহু মিলে গেল চলতি বছরের মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষার ভাইরাল প্রশ্নপত্র। এতেই ফের অস্বস্তি বাড়ল মধ্যশিক্ষা পর্ষদের। পর্ষদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে যে অজস্র ফাঁকফোকর ছিল, প্রথম পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস তা প্রমাণ করে দিল। যদিও এ প্রসঙ্গে পর্ষদের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় শুরু হয় মাধ্যমিকের প্রথম ভাষার পরীক্ষা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সােশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে বাংলার প্রশ্নপত্রের কয়েকটি পাতা। মুহূর্তেই প্রশ্ন ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ভাইরাল প্রশ্নপত্রটিতেই পরীক্ষা হচ্ছে কি না, প্রথম থেকেই তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে আদতে আসল প্রশ্নটিই ভাইরাল হয়েছে কি না সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হতেই দেখা গেল যে, হুবহু মিলে যাচ্ছে দুটি প্রশ্ন। অর্থাৎ এত নিরাপত্তা সত্ত্বেও এবছরও প্রশ্ন ফাঁস রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ পর্ষদ।
যদিও এ বিষয়ে মুখ খোলেননি পর্ষদ সভাপতি। প্রথম পরীক্ষাতেই প্রশ্ন পত্র ফাঁস পর্ষদের ব্যর্থতা বলেই
মনে করছে সকল মহল।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের মাধ্যমিকে প্রশ্ন ফাঁসই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিদিনই পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সােশ্যাল মিডিয়াম মূলতঃ হােয়াটস অ্যাপে ঘুরতে শুরু করে প্রশ্ন। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এহেন ঘটনা রুখতে চলতি বছরে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছিল পর্ষদ। কড়া নজরদারির ব্যবস্থা ছিল সর্বত্রই। পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিলেন যে, নিরাপত্তার খাতিরে পরীক্ষা শুরুর পর দু ঘণ্টা বিভিন্ন জেলার ৪২ টি ব্লকে বন্ধ রাখা হবে ইন্টারনেট পরিষেবা। সেই নির্দেশ
কার্যকর করে মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ ছিল নেট পরিষেবা। কিন্তু তা যে আদৌ কার্যকর হয়নি, তারই প্রমাণ মিলল প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ঘটনায়। কিন্তু এত কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্নের ঝড়।


No comments:
Post a Comment