সিএএ নিয়ে বর্ণাঢ্য নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হল বালুরঘাটের নাট্য মন্দির মঞ্চে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 16 February 2020

সিএএ নিয়ে বর্ণাঢ্য নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হল বালুরঘাটের নাট্য মন্দির মঞ্চে




নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি :- সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আজ এক বর্ণাঢ্য নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হল দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট শহরের নাট্য মন্দির মঞ্চে। বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা সমাজ কর্মী রন্তিদেব সেনগুপ্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাট লোকসভার সাংসদ ডক্টর সুকান্ত মজুমদার, বালুরঘাট মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক প্রশান্ত ধাইর সহ অন্যান্যরা। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আজ এই নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হলো ; যার নাম দেয়া হয়েছে "এক ভারত - শ্রেষ্ঠ ভারত "।
         
                   
গতকাল ও আজ নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠান শেষ হল আজ। রন্তিদেব সেনগুপ্ত প্রধান বক্তা হিসাবে থাকছেন জেনে বালুরঘাট শহরের প্রচুর মানুষজন ভিড় জমান এই অনুষ্ঠানে।
রন্তিদেব সেনগুপ্ত তার বক্তৃতায় জানান ,"সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রকৃত সত্যের বদলে বিভ্রান্তিকর প্রচারটাই বেশি চলছে। তিনি জানান বছর দুয়েক পূর্বে তিনি ত্রিপুরাতে গিয়েছিলেন এক সরকারি অনুষ্ঠানে। সেখানে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরবিন্দ মাহাতোর সঙ্গে। অরবিন্দ বাবু তাঁকে জানিয়েছিলেন এক হৃদয় বিদারক  করুন কাহিনী। অরবিন্দ বাবু বাংলাদেশের কুমিল্লাতে কয়েক মাস থাকা কালীন তার সাক্ষাৎ হয়েছিল সেখানকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু এক শিক্ষক দম্পতির সাথে। কুমিল্লাতে থাকা কালীন মাঝে মধ্যেই ঐ শিক্ষক দম্পতির বাড়ী যেতেন এবং জমিয়ে আড্ডা দিতেন। এমনি একদিন অরবিন্দ বাবু ঐ বাড়ীতে গিয়ে দেখতে পান শিক্ষক মনমরা হয়ে মুখ ভার করে বসে আছেন। তার কিছু একটা হয়েছে অনুমান করে তিনি ঐ শিক্ষকের ঠিক কি হয়েছে তা জানতে চান। বারংবার অনুরোধের পর ঐ শিক্ষক অরবিন্দ বাবুকে জানান, তার স্ত্রীকে গত রাতে সেখানকার ধর্মীয় সংখ্যাগুরুরা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এই কথা শুনে অরবিন্দবাবু ঐ শিক্ষককে বলেন উনি ভারত সরকারের প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন, তাই শিক্ষক চাইলে তিনি বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি তুলবেন। এই কথা শুনে ঐ শিক্ষক জানান পুলিশ বা প্রশাসন কাওকে বলেই কোন কাজ হবে না। আমাদের ঘরের মহিলাদের ওপর এইসব নির্যাতন নিত্যদিনের সঙ্গী,বেঁচে থাকতে হলে চুপচাপ হজম করা ছাড়া বিকল্প নেই আমাদের । এরপর তিনি আরও বলেন এই এলাকার সংখ্যালঘু মহিলাদের ওরা প্রায়শই তুলে নিয়ে যায় এবং দু তিন দিন পর আবার ছেড়ে দেয়। পুলিশ বা প্রশাসনকে জানিয়ে কোন লাভ নেই ; উল্টে তাদের প্রাণের সংশয়ের আশঙ্কা তৈরী হবে ঐ সব দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা। এই প্রসঙ্গের বর্ণনা দিয়ে রন্তিদেব বাবু প্রশ্ন তোলেন, আপনারা কি চান না এসব ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত মানুষজন ভারতে আশ্রয় পাক? তিনি তার বক্তব্যে গ্রেট কলকাতা কিলিং ও নোয়াখালীর দাঙ্গার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। এছাড়াও জানান ,গান্ধীজী জানতেন জিন্নার পাকিস্তানে সংখ্যালঘুরা বাঁচতে পারবে না। ১৬ই জুলাই ১৯৪৭ সালে গান্ধীজির বক্তব্যের কিছু অংশও তুলে ধরেন। যেখানে গান্ধিজী বলেছিলেন -দেশ ভাগের পর যেসব সংখ্যালঘুরা পাকিস্তানে থেকে যাবে তাদের নানা রকমের বিপদে পড়তে হবে এবং যখন তারা সেখানে থাকতে পারবে না তখন ভারতের উচিৎ হবে তাদের সাদরে গ্রহণ করা। আমি মনে করি এই মানুষগুলিকে ভারতের আশ্রয় দেওয়া উচিৎ।
       
             
নেহেরু - লিয়াকত চুক্তিরও উল্লেখ করেন রন্তিদেব বাবু এবং সেই চুক্তি পাকিস্তান পরবর্তীকালে সব অস্বীকার করে বলে জানান তিনি। ৫ই নভেম্বর ১৯৫০ সালে জহরলাল নেহেরুর বক্তব্যের উল্লেখ করেন তিনি। যেখানে নেহেরুজী বলেছিলেন ,দেশ ভাগের পর যেসব নিপীড়িত মানুষ গুলো ভারতে আসছেন তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া ভারতের কর্তব্য এবং তাদের নাগরিকতা দেওয়ার পথে বর্তমান নাগরিকত্ব আইনে যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে তবে তার সংশোধন প্রয়োজন। "

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad