দেবাসিন চন্ডী মাতার পুজোতে শারদীয়া উৎসবের আমেজ নেন এই গ্রামের বাসিন্দারা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 3 February 2020

দেবাসিন চন্ডী মাতার পুজোতে শারদীয়া উৎসবের আমেজ নেন এই গ্রামের বাসিন্দারা




নিজস্ব সংবাদদাতাঃ এ যেন অসময়ে অকালবোধন। আপামোর বাঙালি যখন শারদীয়া উৎসবে মেতে ওঠে, তখন এ গ্রামে দূর্গাপুজো হয় না। ব্যতিক্রমী এই গ্রামটি হল কাটোয়ার আমূল গ্রাম। শরৎকালে এখানে দূর্গাপুজো হয় না। পরিবর্তে মাঘ মাসে দেবাসিন চন্ডীমাতার পুজো ঘিরে অকাল শারোদৎসবে মাতেন কাটোয়ার এই গ্রামের বাসিন্দারা। আর এটা ছাড়া এই গ্রামে দ্বিতীয় কোনও দূর্গাপুজো করার বিধি নেই।
দেবাসিন চন্ডীমাতার এই পুজোর সূচনা হয়েছিল পারিবারিক হিসাবেই। কিন্তু কালক্রমে এই পুজোই সার্বজনীন পুজোর রূপ নেয়। কাটোয়ার সিঙ্গি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত প্রত্যন্ত এক গ্রাম আমূলগ্রাম। প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস এখানে। এই গ্রামে প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে হয় দেবাসিন চন্ডীমাতার পুজো।


প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে এই দেবাসিন চন্ডীমাতার পুজো।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আমূল গ্রামের ব্যানার্জী পরিবার এই পুজোর শুভ সূচনা করেছিলেন। দেবাসিন চন্ডীমাতার পুজোয় দু’টি মূর্তি পাশাপাশি রেখে পুজো করা হয়। একটি আদি শিলামূর্তি। অপরটি মাটির প্রতিমা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যানার্জী পরিবারের এক পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে আমূল গ্রামের পশ্চিমদিকে দেবাসিন নামে দীঘির জলের তলা থেকে দেবীর এই শিলামূর্তি উদ্ধার করেছিলেন। সেইবছর থেকে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথি থেকে চারদিনের পুজো হয়ে আসছে।

দেবাসিন চন্ডীমাতার মাটির প্রতিমা বিচিত্র ধরনের। দেবীর ডানদিকে রয়েছে চারটি হাত আর বাঁদিকে ছ’টি হাত। তার মধ্যে ডানদিকের একটি ও বাঁদিকের দু’টি হাত বড়। বাকি সাতটি হাত তুলনামূলক ছোট। মাটির প্রতিমাটি অবশ্য প্রতিবছর নির্মাণ করা হয় না। শুধুমাত্র দেবীমূর্তির অঙ্গহানি হলে নতুন প্রতিমা নির্মাণ করতে হয়।

সপ্তমী থেকে নবমী এই তিন তিথির পুজো শেষ করতে হয় নবমীতেই। তবে একদিনের পুজো হলেও আচার মেনে উৎসব চলে চারদিনই। পুজো উপলক্ষ্যে গ্রামে মেলা বসে। এই উৎসব ঘিরে আনন্দে মাতোয়ারা হন এলাকার সকল মানুষ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad