অনেকেরই মনে মনে ইচ্ছা জাগে যে, তার যদি একটা টাকার গাছ থাকত! না, তা মোটেও সম্ভব নয়। তবে টাকার গাছ না থাকলেও আছে রুটির গাছ। কি অবাক হচ্ছেন? অবাক করা কথা হলেও এটিই সত্যি!
ছোট বেলায় আমরা অনেকেই কল্প কাহিনীতে পড়েছি, এক নিষঙ্গ নাবিক এক জনমানবহীন দ্বীপে খাবার সন্ধান করতে থাকেন। তখন তিনি এই রুটি ফল আবিষ্কার করেন এবং রুটির চাহিদা মেটান। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, রুটি ফল সত্যিই রুটির মত খাওয়া যায়!
আফ্রিকার জীবনদায়ী গাছ বাওবাব। এটি রয়েছে হর্টিকালচারাল সোসাইটিতে। আফ্রিকার উপজাতিরা বিশ্বাস করেন, একে জড়িয়ে ধরে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। তা থেকেই বাংলায় এর নাম করা হয়েছে কল্প বৃক্ষ। সাদা ফুল থেকে যখন ফল হয়, তখন মনে হয়, মরা ইঁদুর ঝুলে রয়েছে গাছটিতে। এর জন্যই এর আরও একটি নাম ডেড র্যাট ট্রি।
আপাত রুক্ষ জমিতে পাতাহীন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে গাছগুলো। তখন দেখে মনে হয় যেন কেউ শিকড় উপড়ে উল্টো করে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাই একে আপসাইড ডাউন ট্রি নামেও ডাকা হয়ে থাকে।
এই ফল কাঁচা ও পাকা দুই ভাবেই খাওয়া যায়। কাঁচা অবস্থায় এর ফল চাক চাক করে কেটে তাওয়ায় ভেজে বা সেঁকে রুটির মত খাওয়া যায়। তাছাড়া চিনি ও গুড় দিয়েও উপাদেয় খাবার তৈরি করা যায়। পাকা ফলের স্বাদ কলার মত। এমনকি জ্যাম, জেলি বানিয়েও খাওয়া যায় এই ফল। কিছু এলাকায় এটি দিয়ে ক্যান্ডি, চিপস এমনকি মিষ্টি আচারও তৈরি করা হয়ে থাকে। এর পাতা পুড়িয়ে ছাই দিয়ে চর্ম রোগের চিকিৎসা হয়।
ইংরেজিতে এটিকে ব্রেডফ্রুট বলা হয়। এই ফল দিয়ে তৈরি রুটি কেবল স্বাদের জন্যই প্রশংসিত নয়। পাশাপাশি অনেকগুলো বি এবং ই ভিটামিনযুক্ত চিকিত্সায় ও ডায়েটরি পণ্য হিসাবেও এর ব্যবহার হয়। তাছাড়া ব্রেডফ্রুটের অপরিষ্কার ফলগুলোও খাওয়া হয়।
আদি নিবাস তাইওয়ান হলেও এটি নিউজিল্যান্ডে বেশি উৎপাদিত হয়। বীজ সহ ও বীজ ছাড়া এই প্রজাতির উৎপাদন হয়।
সূত্র: আজকের ময়মনসিংহ

No comments:
Post a Comment