একই শরীরে দুই বোন- একজন গণিত তো অপরজন ইংরেজির শিক্ষিকা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 9 February 2020

একই শরীরে দুই বোন- একজন গণিত তো অপরজন ইংরেজির শিক্ষিকা





দুটি মানুষের আলাদা চিন্তাভাবনা, আলাদা নেশা, আলাদা খাদ্যাভ্যাস। কিন্তু বেড়ে উঠেছে একই শরীরে। জার্মানির মিনেসোটায় ১৯৯০ সালের ৭ মার্চ  জন্ম নেয় জোড়া শিশু অ্যাবিগেইল ও ব্রিটনি। বিশ্বখ্যাত সেই দুই বোনের ছোট থেকে বড় হওয়া গল্পের মতোই। ইতিমধ্যে অ্যাবি-ব্রিটনি তাঁদের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

দুই বোন অ্যাবিগেইল লরেন হেনসেল এবং ব্রিটনি লি হেনসেলের বয়স এখন ২৯ বছর। সমাজের সঙ্গে সংগ্রাম করে, নিজেদের সঙ্গে সংগ্রাম করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তাঁরা। স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন দু’জনই। অ্যাবি অঙ্ক এবং ব্রিটনি ইংরাজিতে স্নাতক। শুধু তাই নয়, দু’জনেরই আলাদা ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। এই মুহূর্তে দু’জনেই স্কুলের শিক্ষক।

দু’জনের শরীর এক হলেও মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ আলাদা। তাই তাঁদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, চিন্তাভাবনাও আলাদা। এমনকি খাবারের প্রতি ভালবাসাও আলাদা। হৃৎপিণ্ড, পিত্তাশয় এবং পাকস্থলী আলাদা। তাই তাদের খিদেও আলাদা আলাদা সময়ে পায়। কিন্তু বাকি সব কিছুই এক। যেমন অন্ত্র একটাই, একটাই লিভার, দুটো কিডনি-ডিম্বাশয়। আর তিনটে ফুসফুস রয়েছে তাঁদের। ফলে বেশিরভাগ জৈবিক ক্রিয়াগুলো তাঁদের একই সঙ্গে ঘটে।

একটা শরীর নিয়ে কী ভাবে তাঁরা দুটো আলাদা মানুষের পরিচয় বহন করলেন? দুটো আলাদা ব্রেন কী ভাবে দুটো হাত এবং পা-কে আলাদা আলাদা সিগন্যাল পাঠায়? আর কী ভাবেই বা সেই আলাদা সিগন্যালে সাড়া দেয় এই দুই হাত-পা, তা আজও গবেষকদের কাছে বিস্ময়ের। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার হল, একজনের জ্বর হলেই যে অন্যজনের জ্বর হবে তা কিন্তু নয়। দু’জনের শরীর এক হলেও অসুখ-বিসুখ বেশির ভাগ সময়ই একসঙ্গে হয় না!

তবে অ্যাবি আর ব্রিটনি এই নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। নিজেদের মধ্যে তাঁদের দারুণ বোঝাপড়া। দিন-রাত তাঁরা একে অপরের সঙ্গে খুনসুঁটি চালিয়ে যান। তবে সে সবের মধ্যে তাঁদের একটাই আফসোস। যে স্কুলে তাঁরা পড়ান, সেখানে তাঁদের একজন হিসাবেই গণ্য করা হয়। তাই মাইনেও একজনেরই দেওয়া হয়। অথচ শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিগুণ পরিশ্রম করেন তাঁরা।

সারা বিশ্ব তাঁদের একনামে চেনে। জন্মের সময়ে যখন তাঁদের মা প্যাটি হেনসেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তিনি জানতেন তাঁর শরীরে একটি ভ্রূণই বেড়ে উঠছে। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে জোড়া শিশু সন্তান উপহার দেন। বাইরে থেকে তাঁদের শুধু মাথা দুটো আলাদা। সাধারণত এ রকম সন্তান খুব বেশি দিন বাঁচতে পারে না।

চিকিৎসকেরা প্যাটিকে জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার করে তাঁদের আলাদা করে দেওয়া হবে। তবে সে ক্ষেত্রে যে কোন একজনকে বাঁচাতে পারবেন তাঁরা। মায়ের মন তাতে রাজি হয়নি। কোন সন্তানকেই প্যাটি হারাতে চাইলেন না। স্বামীর সঙ্গে মিনেসোটার প্রত্যন্ত ফার্মে দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁরা বসবাস শুরু করেন। আর এখানেই অ্যাবি ও ব্রিটনি এই দুই বোন বড় হন।





সূত্র: দি বেঙ্গলি টাইমস্

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad