শিশুকাল অত্যন্ত সরল, শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও সহজ। এ সময়টিতে সতর্কতার সঙ্গে দেখভাল না করলে অনেক শিশুর মনে ঠাঁই পায় ভূতের ভয়ের মতো কিছু ছবি, যা আজীবন তাকে বয়ে বেড়াতে হয় অসুস্থতার মতো।
তাই শিশুকে খেলার ছলে, গল্পের ছলে বা ভয় দেখাতে ভূত নামে অদৃশ্যের ভয়, অদৃশ্যের কাল্পনিক কাহিনী না বলা অথবা না শোনানোই উচিৎ। শিশুকে ভূতের ভয় না দেখিয়ে, অদৃশ্যের প্রতি ভীতু না করে বাস্তবতার প্রতি অভ্যস্ত করাই ভালো।
তাই শিশুকে খেলার ছলে, গল্পের ছলে বা ভয় দেখাতে ভূত নামে অদৃশ্যের ভয়, অদৃশ্যের কাল্পনিক কাহিনী না বলা অথবা না শোনানোই উচিৎ। শিশুকে ভূতের ভয় না দেখিয়ে, অদৃশ্যের প্রতি ভীতু না করে বাস্তবতার প্রতি অভ্যস্ত করাই ভালো।
ব্রিটিশ শিশু গবেষক জোসেফ ফ্রাঙ্কলিন বলেছেন, ভয় এমন একটি জিনিস যা আজীবনেও চলে যায় না বরং নানান সময়ে তা পথ আগলে দাঁড়ায় ঠিক কাল্পনিক সেই ভূতের মতোই।
তাই আপনার চঞ্চল শিশুটিকে ভূতের ভয় দেখিয়ে দমন করা হলে যেকোন সময়ে সামনে এসে দাঁড়াতে পারে কিছু বিপদ। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক সেই বিপদগুলো সম্পর্কে-
• শিশুদের মনে একবার ভূতের ভয় গেঁথে গেলে তা সারাজীবন লেগে থাকে ছবির মতো।
• কোন শিশু যদি ভয়কে ঠিক গ্রহণ করতে না পারে, তাহলে ভূত আতঙ্কে অপ্রকৃতস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই থাকে বহুলাংশে। এছাড়া শিশুর মধ্যে দেখা দিতে পারে মানসিক সমস্যা।
• অতিরিক্ত ভয়ের কারণে শিশুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে ঘটতে পারে অকাল মৃত্যু।
• যে বস্তুটি পৃথিবীতে নেই, তার একটি কাল্পনিক রূপ এঁকে শিশুর সামনে ভয়ার্ত রূপে উপস্থাপন করলে অদৃশ্যের প্রতি শিশুর ভয় আরও বাড়তে থাকে।
• যে শিশুর মধ্যে ভৌতিক ভয় আছে সে শিশু অন্য শিশুর চেয়ে ধীর, ভীতু হয়; যা কাম্য নয়।
• ভৌতিক ভয় শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বুদ্ধিবৃত্তিতে শ্লথ করে দেয়।
• শিশুমন কোমল। এমতাবস্থায় ভয় তাদের মনে ছাপ ফেলে সহজে এবং তা আজীবন থেকে যায় মনে।
• কোন শিশুর মধ্যে ভূত আতঙ্ক তৈরি হলে তার স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
• ভূতের ভয় থেকেই ভীতু মনোবল তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে বোঝা যায় না কিন্তু তা একটি অসুখ।
তাই শিশুকে কোনভাবেই ভূতের ভয় না দেখানো বা না শোনানো উচিৎ। ভূত বলতে যে কাল্পনিক রূপ আমরা এঁকেছি তা আমাদের বোকামি। শিশুর সামনে এ ছবি তুলে না ধরাই ভালো।
সূত্র: নোয়াখালী সমাচার

No comments:
Post a Comment