মানসিক চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রাখে কান্না, জেনে নিন কিভাবে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 8 February 2020

মানসিক চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রাখে কান্না, জেনে নিন কিভাবে





চলুন দেখি কান্না আমাদের কী কী উপকার করে। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ATCH (Adrenocorticotropic hormone) ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে এড্রেনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসল উৎপন্ন হয়। কর্টিসল রক্তচাপ বাড়ায়। রক্তে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি করে, যা আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের হার বাড়িয়ে তোলে। আরও বিভিন্ন শারীরতাত্ত্বিক পরিবর্তন আমাদের কাজ করতে উদ্দীপ্ত করে। এর ফলে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। এই চাপ কমানোর মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে কান্না।
কান্নাকাটির পর শান্ত অনুভব করার অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই আছে। এর কারণ হল, কাঁদলে অতিরিক্ত ATCH বের হয়ে যায় এবং কর্টিসোলের পরিমাণ কমে যায়। ফলে চাপ কমে যায়। আমাদের শরীরে থাকা চাপ নিবারক আরেকটি উপাদান হচ্ছে লিউসিন এনকেফালিন (leucine enkephalin)। আবেগজনিত অশ্রুর সাথে এটি নিঃসৃত হয়। এটি ব্যথা কমায় এবং মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটায়। পেইনকিলার হিসেবে আমরা যে ওষুধগুলো খাই লিউ এনকেফালিন অনেকটা সেরকম কাজ করে।
বিভিন্ন বয়সে কান্না
প্রথমেই তাকাই শৈশবে। নতুন জন্মানো শিশুর কান্নার সময় চোখ দিয়ে জল পড়ে না। জল পড়ে আরেকটু বড় হলে। কান্না আসলে শিশুদের যোগাযোগের মাধ্যম। ক্ষুধা লাগলে বা ঘুম পেলে কিংবা ব্যথা পেলে তারা কাঁদে। শিশু আরেকটু বড় হলে ধরা যাক ১০ মাস বয়সে কাঁদে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। দক্ষ অভিনেতার মতো এ কান্নাকে বলে মায়াকান্না (crocodile tears)।
বয়সন্ধীকালে টেস্টোস্টেরণ এবং প্রোজেস্টেরণ ক্ষরিত হয়। এসময় মেয়েরা বেশি কাঁদে। ছেলেরা লক্ষ্যণীয়ভাবে কম কাঁদে। মেয়েদের বেশি কাঁদার আরেকটা কারণ তাদের অশ্রুনালী ছেলেদের তুলনায় কম দীর্ঘ। এজন্য দ্রুত চোখে জল আসে। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে কান্নার ধরণ বদলাতে থাকে। কারণ টেস্টোস্টেরণ এবং প্রোজেস্টেরণের মাত্রায় পরিবর্তন আসে তখন। পুরুষেরা বেশি কাঁদতে থাকে, নারীরা কম।
বিভিন্ন সংস্কৃতিতে কান্না 
সংস্কৃতি ভেদে কান্না ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন পশ্চিমা সমাজে কান্নাকে ইতিবাচকভাবে নেওয়া হলেও এশীয় সমাজে বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে কান্নাকে দুর্বলতা হিসেবে ধরা হয়। এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকা এবং ইতালির লোকজন চীন এবং ঘানার লোকজনের চেয়ে বেশি কাঁদে।
পার্থক্য আছে শেষকৃত্যে কান্নার ধরণেও। যেমন ফিজিতে আপনি মরদেহ কবর দেওয়ার আগে পর্যন্ত কাঁদতে পারবেন না। ইরানে আবার জোরে জোরে কাঁদলে সমস্যা নাই। ধর্মভেদেও কান্না আলাদা হয়। 
কতটুকু কান্না স্বাভাবিক
শিশুদের জন্য প্রতিদিন তিন ঘন্টা কাঁদা স্বাভাবিক। এর চেয়ে বেশি কাঁদলে বুঝতে হবে তাদের চিকিৎসা দরকার। ঠান্ডা লাগা বা অন্য কোন সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। প্রাপ্ত বয়স্কদের কান্নার ক্ষেত্রে কোনো সময় আসলে নাই। কান্নার পরিমাণ অনেকাংশেই প্রভাবিত হয় মানুষের পরিবেশ দ্বারা।
আপনি কতটুকু কাঁদছেন তা বলে দেয় আপনি মানসিকভাবে কতটুকু সুস্থ। অতিরিক্ত কান্নাকাটি ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। আবার একেবারে না কাঁদা বা কম কাঁদাটাও তীব্র ডিপ্রেসনের উপসর্গ হতে পারে। এই ব্যাপার নিয়ে বিতর্ক আছে। যেমন, নেদারল্যান্ডসের গবেষকরা বেশি কান্না বা কম কান্না ডিপ্রেসনের লক্ষণ এই দাবীর পক্ষে জোরালো কোন প্রমাণ পাননি।
কান্না যখন আবেগ ছাড়াও বেশি কিছু
আপনাকে কেউ অশ্রুসজল চোখে দেখার মানে এই নয় যে আপনি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে গেছেন! শরীরের অন্য কোন সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। অশ্রুনালী বন্ধ হয়ে গেলেও আপনার চোখ প্লাবিত হতে পারে। বার্ধক্য, আঘাত, সংক্রমণ, প্রদাহের কারণে এমন হতে পারে। এই ধরনের কান্নার প্রতি আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। একে বলে প্যাথলজিক্যাল কান্না। আবার কিছু কিছু রোগ যেমন, স্ট্রোক, আলঝেইমার, মাল্টিপল সেরোসিস ইত্যাদির কারণেও চোখ থেকে জল পড়তে পারে।
গবেষকরা বলেন, এরকম অতিরিক্ত কান্নাকাটি বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ছাড়াও হতে পারে। সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কে সেরেটোনিনের পরিমাণ কমে যাওয়ার উপর দোষ চাপানো যেতে পারে। সর্বোপরি, কান্না যতক্ষণ না প্যাথলজিক্যাল হচ্ছে এর জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
সবশেষে বলা যায়, মানুষ একমাত্র প্রাণী যে আবেগে কাঁদতে পারে। কান্না শুধু মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্যেই নয়, এর আছে মানিসকভাবে মানুষকে সুস্থ রাখার বিশাল শক্তি। মন খুলে কাঁদা আমাদের সুস্থ এবং চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করে। কান্না কোন দুর্বলতা নয়, এটা একটা শক্তি। তাই, কান্না পেলে মন খুলে কাঁদুন। সুস্থ থাকুন।





সূত্র: বাংলা বার্তা

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad