কর্মজীবী মায়ের সন্তানরা জীবনে বেশি সফল: গবেষণা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 6 February 2020

কর্মজীবী মায়ের সন্তানরা জীবনে বেশি সফল: গবেষণা




মা যদি কর্মজীবী হন এবং অধিকাংশ সময়েই বাড়ীর বাইরে থাকেন, তাহলে ওই মায়ের সন্তানেরা নাকি ঠিকমত মানুষ হয় না। কোন কর্মজীবী মায়ের সন্তানেরা একটু বিগড়ে গেলেই তার পেছনে মায়ের কাজ করাকে দায়ী করা হয়ে থাকে। বলা হয়, পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেনি বলেই বিগড়ে গেছে তার সন্তানেরা। কেউ যদি মনে করেন শুধু আমাদের দেশের মানুষেরাই এ ধরণের ধারণার বশবর্তী হয়ে থাকে, তাহলে খুবই ভুল করবেন। অনেক পশ্চিমা দেশেও সন্তানদের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে এতদিন কর্মজীবী মা-কেই দোষারোপ করা হয়ে আসছিল। গবেষণা সাক্ষ্য দিচ্ছে, কর্মজীবী মায়ের সন্তানদের বুদ্ধিমত্তা একটু বেশি হয়। ফলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাটা খুব একটা ভালো সিদ্ধান্ত নয়।

গবেষণা :
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের এক গবেষণার মাধ্যমে বের হয়ে এল প্রকৃত বাস্তবতা যে কর্মজীবী মায়েরা সন্তানের সুষ্ঠু বিকাশের ক্ষেত্রে অন্তরায় নন বরং মা যদি কর্মজীবী হন তাহলেই তার সন্তানদের জীবনে ভালো কিছু করে দেখাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এক্ষেত্রে অবশ্য কর্মজীবী মায়ের দ্বারা পুত্র সন্তানদের চেয়ে কন্যা সন্তানদের প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সম্প্রতি গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যাচ্ছে, কর্মজীবী মায়েদের সন্তানেরা শুধু যে ক্যারিয়ারেই সফল হয়, তা কিন্তু নয়। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাদের সুখী হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকাংশে বেড়ে যায়। ২৯টি দেশের প্রায় এক লক্ষেরও বেশি নারী-পুরুষের উপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, গৃহিণী মায়ের কন্যা সন্তানদের থেকে কর্মজীবী মায়ের কন্যা সন্তানদের চাকরিজীবী হওয়ার সম্ভাবনা ১.২১ গুণ বেশি। অন্যদিকে তাদের নেতৃস্থানীয় পদে কাজ করার সম্ভাবনা ১.২৯ গুণ বেশি, এবং তারা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪৪ মিনিট অতিরিক্ত কাজ করে থাকে। তাছাড়া তারা বেতনও পেয়ে থাকে বেশি। ২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ জরিপে অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্যে, যাদের মা কর্মজীবী, তারা গৃহিণী মায়ের সন্তানদের থেকে প্রতি বছরে গড়ে ১,৮৮০ মার্কিন ডলার বেশি বেতন পেয়েছেন।

সন্তানদের প্রভাব :
কর্মজীবী মায়ের বাড়ীর বাইরে কাজ করা কীভাবে তার পুত্র-কন্যাসন্তানের ক্যারিয়ারের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে! সব সন্তানের জীবনেই তার মায়ের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। মাকে দেখেই একটি শিশু বড় হয়, তার চিন্তা-চেতনা, রুচিবোধ, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতিতে মায়ের প্রচ্ছন্ন প্রভাব ও সাদৃশ্য থাকে। তাই কোন শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই এটি দেখে বড় হয় যে তার মা ঘরের কাজ বাদে বাইরের কাজেও সমান পারদর্শী এবং দুইদিকই সমানভাবে সামলাতে পারছেন, তাহলে তার ভেতরও কর্মজীবী হওয়ার মানসিকতা গড়ে উঠবে। তাই কর্মজীবী মায়ের সন্তানেরও ভবিষ্যতে কর্মজীবী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সে খুব অল্প বয়স থেকেই আত্মনির্ভরশীলতা লাভ করে। নিজের ভালো মন্দ নিজে বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। এই ব্যাপারটি তাকে ভবিষ্যৎ জীবনে অনেক সাহায্য করে। কোন পুত্র সন্তানের মা যদি কর্মজীবী হয়ে থাকেন, তাহলে তাদেরও জীবনসঙ্গিনী হিসেবে কোন কর্মজীবী নারীকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। তাছাড়া তারা তাদের জীবনসঙ্গিনীকে বাড়ীর বাইরের কোন কাজের সাথে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারেও উৎসাহ প্রদান করেন। তাদের পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনেও বিশেষ প্রভাব পড়ে।

মনে রাখবেন, আপনি যখন অফিস, সংসার দুই-ই সামলাচ্ছেন, ফলে আপনি সব পারবেন। আপনার সাহস, আত্মবিশ্বাস আপনার সঙ্গেই আছে। হেরে গেলে চলবে না। এই তথ্য কর্মজীবী নারীদের জন্য অনেক সহায়ক হবে। কেননা অনেক কর্মজীবী নারীই মা হওয়ার পর সন্তানের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে চাকরী ছেড়ে দেন, নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দেন।








সূত্র: বিডি24 রিপোর্ট

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad