স্বাস্থ্য তরতাজা করতে চাইলে পাতে রাখুন রুইমাছ - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 17 February 2020

স্বাস্থ্য তরতাজা করতে চাইলে পাতে রাখুন রুইমাছ





আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। ছোট বড় সব ধরণের মাছই আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। এসব মাছের মধ্যে রুই অন্যতম। এই মাছটি শুধু স্বাদের খনি নয়, একইসঙ্গে সুস্বাস্থ্যেরও চাবিকাঠি। আবার রোগমুক্তিতেও এই মাছ অনন্য। রুই মাছে ৭৯ ক্যালরি, ৭৬.৭ মিলি পানি, ২.৬৬ গ্রাম নাইট্রোজেন, ১৬.৬ গ্রাম প্রোটিন, ১.৪ গ্রাম ফ্যাট এবং ১০০ এমজি সোডিয়াম রয়েছে। এছাড়া এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফলফরাস, আয়রন এবং কপার। এসব পুষ্টিকর উপাদানগুলো শরীরের জন্য অনেক উপকারী।

গবেষকরা বলেছেন, এই পুষ্টিকর উপাদানগুলো শরীরের জন্য অনেক উপকারী। বর্তমানে যে যে নন-কমিউনিকেবল রোগের কারণে সারা বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান, তার বেশিরভাগ রোগের প্রতিরোধেই এই মাছটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেইসঙ্গে সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে রুই মাছ। আসুন জেনে নেই রুই মাছের আরও নানা উপকারিতা-


১. পুষ্টির ঘাটতি দূর করে
রুই মাছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের প্রতিদিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তাই তো এক কথায় বলা যেতে পারে যে রুই মাছ হল সেই ব্রহ্মাস্ত্র, যা দিয়ে ছোট-বড় যে কোন রোগকেই কুপোকাত করা সম্ভব। রুই মাছের সেলেনিয়াম এমন কিছু এনজাইমের জন্ম দেয়, যা ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখতেও ভূমিকা পালন করে।


২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়
পড়াশোনা কিংবা অফিস যেটাই হোক না কেন, দিনের বেশিরভাগ সময় আমাদের কম্পিউটার নিয়েই ব্যস্ত থাকি। এতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চোখ। তাই শরীরের মূল্যবান এই অঙ্গটির খেয়াল রাখা জরুরী। কিভাবে করবেন এই কাজটি? খুব সহজ! নিয়মিত রুই মাছ খাবেন। তাহলেই আর চোখ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। এর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শুধু দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায় না, একইসঙ্গে ম্যাকুলার ডিজেনারেশনকেও প্রতিরোধ করে।


৩. রক্ত প্রবাহের উন্নতি ঘটায়
সপ্তাহে কম করে ২-৩ দিন রুইমাছ খেলে শরীরে “ই পি এ” এবং “ডি এইচ এ” এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরের প্রতিটি অংশে রক্তের প্রবাহ এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে দেহে ইকোসোনোয়েডের প্রভাব কমতে শুরু করে। যে কারণে রক্তনালীতে জমাট বাঁধার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।


৪. জয়েন্টের কর্মচঞ্চলতা বৃদ্ধি করে
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অস্টিওপোরোসিস রোগের মধ্যে যে গভীর একটা সম্পর্ক রয়েছে সে বিষয়টি নজরে এসেছে বিজ্ঞানীদের। তাদের মতে, এই প্রকৃতিক উপাদানটির মধ্যে এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যা এই ধরনের হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগের প্রকোপ কমায়।


৫. হার্ট চাঙ্গা থাকে
রুই মাছে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড হল হার্টের জন্য মহৌষধি। তাই তো এই প্রাকৃতিক উপাদনটি যত বেশি করে শরীরে প্রবেশ করবে, তত হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে। সেইসঙ্গে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও হ্রাস পাবে। অনিয়ন্ত্রিত জীবন, বেহিসেবি খাওয়া-দওয়া এবং আরও নানা কারণে কম বয়সিদের মধ্যে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর আমাদের দেশে যতজন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশেরই বয়স ৪০-এর কম। এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন, সুস্থ জীবন পেতে রুই মাছ খাওয়াটা কতটা জরুরি।


৬. দূষণের হাত থেকে বাঁচায়
রুই মাছে থাকা বিশেষ কিছু উপাদান ফুসফুসের কর্মক্ষমতা এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে বায়ু দূষণের কুপ্রভাব শরীরের উপর পরতেই পারে না। সেই সঙ্গে অ্যাস্থেমার প্রকোপও হ্রাস পায়।


৭. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
বৈজ্ঞানিক নথি অনুসারে, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির হাত থেকে আমাদের ত্বককে রক্ষা করে। সেইসঙ্গে একজিমা এবং সোরিয়াসিসের মতো রোগের চিকিৎসাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, মাছে উপস্থিত প্রোটিন কোলাজেনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।








সূত্র: ইনকবিডি

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad