নিজস্ব সংবাদদাতাঃ হ্যারি পটার খ্যাত জে কে রাউলিং- এর প্রকাশনার নতুন উপন্যাস ' দ্য হোয়াটস লেফট অফ দ্য জাঙ্গল বুক'। এই উপন্যাসের মূল চরিত্রে কোন হ্যারি পটার না, স্থান পেলেন বক্সার জঙ্গলের গাইড নেত্র প্রসাদ শর্মা। বক্সার জঙ্গলে বছর চল্লিশের একজন ছাপোষা ফরেস্ট গাইডকে নিয়ে এহেন ২৭২ পাতার উপন্যাস নিয়ে উচ্ছ্বসিত বক্সা বাসী।
ক্ষনিকের জন্য কল্পনা মনে হলেও কিন্তু এটাই বাস্তব। পেটের তাগিদে ২৪ বছর আগে বক্সার পাম্পু বস্তির সাদা মাটা বাসিন্দা মাধ্যমিক না দিয়ে বেছে নিয়েছিলেন গাইডের জীবিকা। প্রায় দুই যুগের অভিজ্ঞতায় গুলে খেয়েছেন বক্সার গহীন অরণ্যের অলিগলি। পেশাগত কারণে বাংলা, হিন্দি, গোর্খালী ভাষার সাথে সাথে ইংরেজিতেও যথেষ্ট পারদর্শী তিনি। তার এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই গবেষকরা যখনই বক্সার জঙ্গলে এসেছেন, ডাক পড়েছে নেত্র প্রসাদের। ২০১০ সালে শেষের দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবাসী ভারতীয় ছাত্র নিতীন শেখর এসেছিলেন বক্সার জঙ্গলে গবেষণার কাজে। সে সময়ই পরিচয় নেত্র প্রসাদের সাথে। টানা তিন বছরের গবেষণা চলাকালীন নীতিন বেশ রমাঞ্চিত হয়েছিলেন এই গাইডের কার্যক্রমে। তাদের দু-জনের মধ্যে গড়ে ওঠে নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক।
এরই মাঝে গবেষক নীতিন শেখর কখন যে নেত্র প্রসাদের জীবনী লিখে ফেলেছেন তা জানতেন না খোদ নেত্র প্রসাদ। সম্প্রতি মেইল মারফত নেত্রর কাছে এসে পৌঁছেছে তার জীবনী নিয়ে লেখা ২৭২ পাতার পান্ডুলিপি। তার পরই আসে নীতিনের ফোন। তখনই তিনি জানতে পারেন জে,কে রাওলিং তার এই কাহিনী ছাপার ইচ্ছে প্রকাশ করছেন। সমস্ত চুক্তি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং এই পান্ডুলিপি ছাপা হবে হ্যারি পটারের স্রষ্টা জে কে রাওলিং- এর প্রকাশনায়। জুলাই মাসে গবেষক বন্ধু নীতিন ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার আমন্ত্রন জানিয়েছেন। আমন্ত্রণ পেয়ে পাসপোর্ট এবং ভিসার জন্যও আবেদন করেছেন নেত্র প্রসাদ। এ বছরের শেষের দিকে সম্ভবত প্রকাশ পেতে চলেছে নেত্র প্রসাদকে নিয়ে লেখা উপন্যাস 'দ্য হোয়াটস লেফট অফ দ্য জাঙ্গল বুক'
তবে খসড়া প্রকাশ না করার জন্য লেখক অনুরোধ করেছেন। সবমিলিয়ে স্ত্রী এবং দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে একটা অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে রয়েছেন ফরেস্ট গাইড নেত্র প্রসাদ।

No comments:
Post a Comment